দলবাজি ভুলে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম ফিল-আপ! ভবানীপুরে চমক মমতার ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলরের
মমতার ‘ছায়াসঙ্গী’ হয়েও শুভেন্দুর প্রকল্পে সিলমোহর? ভবানীপুরে বিজেপির ফর্ম বিলি করে শোরগোল ফেললেন অসীম বসু!
Truth of Bengal: রাজনীতিতে ক্ষমতা বদলের পর কি এবার দলীয় আনুগত্যের রংও ফিকে হতে শুরু করেছে? টালিপাড়া থেকে কালীঘাট, যাঁর পরিচিতি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ‘ছায়াসঙ্গী’ কাউন্সিলর হিসেবে, সেই হেভিওয়েট নেতাই এবার লড়ছেন বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সফল করতে। কথা হচ্ছে কলকাতার ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবীণ তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসুকে নিয়ে। পালাবদলের বাংলায় তাঁরই প্রত্যক্ষ তদারকিতে এবং কার্যালয়ে বসে জোরকদমে চলছে শুভেন্দু সরকারের মেগা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম পূরণের কাজ। সোমবার সকাল থেকেই তাঁর ওয়ার্ড অফিসে এই ফর্ম ফিলআপের শিবিরে মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো, যা নিয়ে এই মুহূর্তে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দিন শেষ, আসছে অন্নপূর্ণার ৩ হাজার টাকা
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ভোট বৈতরণী পার করতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। এই প্রকল্পে সাধারণ মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১,৭০০ টাকা করে পেতেন। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে বিজেপি তাদের সংকল্পপত্রে বা ইশতেহারে ঘোষণা করেছিল যে, ক্ষমতায় এলে এই টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ করে প্রত্যেক মহিলাকে মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর সেই ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করেছে শুভেন্দু প্রশাসন। গত শুক্রবার থেকে অফলাইনে ফর্ম বিলি শুরুর পর, সোমবার থেকে অনলাইনেও এই ফর্ম ডাউনলোড করা যাচ্ছে।
“জনসাধারণের কাজ করাই আমার ধর্ম”, সমালোচকদের জবাব অসীমের
সোমবার ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অফিসে এই সরকারি প্রকল্পের ফর্ম পূরণ করাতে নিজেই তদারকি করেন অসীম বসু। একজন কট্টর তৃণমূলী হয়ে বিজেপির আনা প্রকল্পের প্রসারে কেন এত উদ্যোগী? এই প্রশ্নের উত্তরে সমস্ত বিতর্ক ও সমালোচনা এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন অসীমবাবু।
কাউন্সিলরের সাফ কথা, “ফর্ম পৌরসভার মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ তথা এই বৃহত্তর পরিবারের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার পরম দায়িত্ব। আমার মনে হয়েছে মানুষের ভালোর জন্য সরকার যে কাজটি করছে, সেটি সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত। জনসাধারণের হয়ে কাজ করতে গিয়ে কে কী বলল, বা কোন দল সমালোচনা করল, তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলে যাওয়ার পর নিজেদের এলাকায় জনপ্রিয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখতেই তৃণমূল কাউন্সিলরেরা এখন নতুন সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের হাত ধরছেন। কারণ দল যাই হোক না কেন, আমজনতা যদি ৩,০০০ টাকার আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়, তবে তার খেসারত আগামী পুরভোটে কাউন্সিলরদেরই দিতে হবে। তবে কারণ যাই হোক, মমতার খাসতালুক ভবানীপুরে তৃণমূল কাউন্সিলরের এই ‘সৌজন্য’ যে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।





