আজ থেকেই অনলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মপূরণ শুরু! কীভাবে আবেদন করবেন?
আজ থেকেই অনলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মপূরণ শুরু! কীভাবে আবেদন করবেন?
Truth of Bengal: অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে মহিলাদের মধ্যে উৎসাহ ক্রমেই বাড়ছে। অফলাইনে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলি। বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মহিলা এই প্রকল্পের ফর্ম সংগ্রহ করেছেন। এবার সোমবার থেকে অনলাইনেও ফর্মপূরণ চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার লক্ষ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে নাম নথিভুক্তিকরণ ও ফর্মপূরণের কাজ। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগামী বুধবারের মধ্যে আরও বহু মহিলার নাম নথিভুক্তির কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টাল থেকে সরাসরি ফর্ম ডাউনলোড করা যাবে। বাংলা, ইংরেজি এবং হিন্দি—এই তিন ভাষাতেই ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে। আবেদনকারীরা নিজেদের সুবিধামতো ভাষার ফর্ম ডাউনলোড করে তা পূরণ করে জমা দিতে পারবেন।
ফর্মের শুরুতেই পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, আধার নম্বর এবং ডিজিটাল রেশন কার্ড সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। এরপর পরিবারের সদস্য সংখ্যা, ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর উল্লেখ করতে হবে। শুধু আবেদনকারীর তথ্য নয়, ধাপে ধাপে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের বিস্তারিত তথ্যও ফর্মে দিতে হবে। পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য, এপিক নম্বর, জাতি সংক্রান্ত তথ্য, রেশন কার্ডের বিবরণ, বাড়ির ধরন, পারিবারিক জমির মালিকানা, যানবাহন, স্বাস্থ্যবিমা এবং আয়কর সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের প্যান কার্ড সংক্রান্ত নথিপত্রও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়াও ফর্মে জানতে চাওয়া হয়েছে পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, তাঁরা জিএসটি-র আওতাভুক্ত কিনা, কেউ সরকারি পেনশনভোগী কিনা বা পরিবারের কোনও সদস্য রাজনৈতিক পদাধিকারী কিনা। অর্থাৎ প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার আগে পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থান বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে চাইছে রাজ্য সরকার।
ফর্মের শেষের দিকে সিএএ ও এসআইআর সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি আবেদনকারী বা তাঁর পরিবার অন্য কোনও সরকারি সুবিধা পান কিনা, সেই তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের শিশুরা কোন স্কুলে পড়ে এবং তাঁদের টিকাকরণ কোথা থেকে হয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য দিতে হবে। ফলে এই ফর্মপূরণে একাধিক সরকারি নথি একসঙ্গে প্রস্তুত রাখা জরুরি। রাজ্য সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ফর্মপূরণের পর যদি কোনও আবেদনকারীর অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন বাতিল হয়, তবে তার কারণ সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে উল্লেখ করতে হবে। ফলে আবেদন বাতিলের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, ২ তারিখের মধ্যে ফর্মপূরণ সম্পন্ন হলে চলতি মাসেই যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা ঢুকতে পারে। তবে রাজ্য সরকার ফর্ম ফিল আপের জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে আগামী তিন মাস সময় বেঁধে দিয়েছে। ফলে যাঁরা এখনও ফর্ম সংগ্রহ বা পূরণ করতে পারেননি, তাঁদের হাতে এখনও সময় রয়েছে।





