আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের বাধা! এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ শুভেন্দু অধিকারী
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বৃহস্পতিবার।
Truth of Bengal: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ ধরে এবার আইনি লড়াইয়ে নামলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পুড়ে যাওয়া এলাকা পরিদর্শন এবং গড়িয়া শীতলা মন্দির থেকে নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশ সেই কর্মসূচিতে অনুমতি না দেওয়ায় সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপি নেতা। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বৃহস্পতিবার।
গত ২৫ জানুয়ারি রাতে নাজিরাবাদের একটি ডেকরেটর ও মোমো তৈরির গুদামে বিধ্বংসী আগুন লাগে। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও পর্যন্ত ২১ জনের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিজেপি প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে, প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এই প্রাণহানি ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার এলাকা পরিদর্শন এবং থানা ঘেরাও অভিযানের পরিকল্পনা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই এলাকায় ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (পুরানো ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে।
নাজিরাবাদের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত বিভীষিকাময়। পোড়া ছাইয়ের স্তূপের নিচে এখনও হাড়গোড় এবং দেহাংশ মিলছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশ শনাক্ত করতে ডিএনএ ম্যাপিং শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে, এই শ্মশানপুরীর মতো এলাকাটিই এখন কৌতূহলী মানুষের ভিড়ে ‘দর্শনীয় স্থান’-এ পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার ভয়াবহতাকে গুরুত্ব না দিয়ে অনেকেই সেখানে ভিড় করছেন ছবি তোলা বা সোশ্যাল মিডিয়া ভ্লগ বানানোর জন্য। এই অনিয়ন্ত্রিত ভিড় তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেই পুলিশ ১৬৩ ধারা জারি করে এলাকাটি ঘিরে রেখেছে।
শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবীদের দাবি, বিরোধী দলনেতা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা এবং গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানানো তাঁর অধিকার। অন্যদিকে, পুলিশি বাধার মুখে পড়ে এখন আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। বৃহস্পতিবার দুপুরে শুনানির পরেই স্পষ্ট হবে যে, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর থানা ঘেরাও অভিযান বা পরিদর্শনে যেতে পারবেন কি না।






