ইঞ্জিনিয়ারের বেতন বাড়ল মাত্র ৯ টাকা, বহুজাতিক সংস্থার কাণ্ড দেখে তাজ্জব নেটপাড়া
৯ টাকা ইনক্রিমেন্ট কি আদতে অপমান? আইটি সেক্টরে কর্মীদের এই দুরবস্থা নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া।
Truth of Bengal: দিল্লির এক নামী বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের বেতন বৃদ্ধির করুণ কাহিনী বর্তমানে নেটপাড়ায় ভাইরাল। যেখানে মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সংসার চালানোই দায়, সেখানে এক বছর হাড়ভাঙা খাটুনির পর ওই যুবকের বেতন বেড়েছে মাত্র ৯ টাকা! শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই সামান্য ইনক্রিমেন্টটুকুও জোটেনি তাঁর কপালে। রেডডিট-এ নিজের এই দুরবস্থার কথা শেয়ার করতেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
সংশ্লিষ্ট ওই টেক কর্মী জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে মে মাসে ইন্টার্ন হিসেবে তিনি এই সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন। পরে ৪.২৫ লক্ষ টাকার বার্ষিক প্যাকেজে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে স্থায়ী হন। কিন্তু আদতে হাতে যে টাকা পেতেন, তা জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত নগণ্য। তিনি লিখেছেন, “নিজের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যেন গর্তে পড়ে আছি। অফিসের পাশাপাশি ক্লায়েন্টের জায়গায় গিয়েও কাজ করতে হয় দাসের মতো, অথচ যাতায়াতের খরচটুকুও দেয় না সংস্থা। উল্টে মেইন ক্যাম্পাসে যাওয়ার শাটল সার্ভিসের নাম করে উল্টে বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়।”
সংস্থার ‘বন্ড’ বা চুক্তির গেরোয় কার্যত ফেঁসে গিয়েছেন ওই যুবক। তিনি জানিয়েছেন, দুই বছরের বন্ড রয়েছে তাঁর, যা ভাঙলে দিতে হবে দেড় লক্ষ টাকা। আবার চাকরি ছাড়তে চাইলে রয়েছে দীর্ঘ ৬ মাসের নোটিস পিরিয়ড। ওই ইঞ্জিনিয়ারের আক্ষেপ, “কলেজ পাস করার পর বাজারের অবস্থা খুব খারাপ ছিল বলেই বাধ্য হয়ে এই সংস্থায় যোগ দিয়েছিলাম। প্রথম বছর ইনক্রিমেন্ট লেটারে দেখা যায় বেতন বেড়েছে মাত্র ৯ টাকা। আর এই বছর সেই ৯ টাকা বাড়ানোও প্রয়োজন মনে করেনি তারা।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্টটি ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে। নেটিজেনরা ওই সংস্থার মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জনৈক এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সংস্থাটি জানে আপনি ছেড়ে দিলেও আপনার জায়গায় কম বেতনে অন্য কেউ যোগ দেবে, তাই তারা আপনাকে এমন কম অফার করেছে।” বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, এই ধরণের ‘টক্সিক’ কর্মপরিবেশে হতাশ না হয়ে নিজের দক্ষতা বা স্কিল বাড়ানোই একমাত্র পথ।
ভারতে বর্তমানে আইটি সেক্টরে বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক মন্থর। অটোমেশন এবং খরচ কমানোর দোহাই দিয়ে বহু সংস্থাই কর্মীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে। উল্টোদিকে ই-কমার্স এবং ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মতো ক্ষেত্রগুলিতে ১০ শতাংশের ওপর বেতন বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে। দিল্লির এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে দিল যে নামী বহুজাতিক সংস্থা মানেই যে কর্মীদের জীবন সুখের হবে, তা সবসময় সত্যি নয়।




