দেশ

তামিলনাড়ুতে এবার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ মডেল! ডিএমকে-কে রুখতে মহিলাদের জন্য প্রতিশ্রুতি বিজেপির

সুব্রহ্মণ্য ভারতীর মতো মনীষীদের স্মরণ করে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন।

Truth of Bengal: তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে মঙ্গলবার রাজ্যের জন্য নিজেদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করল বিজেপি। তামিল নববর্ষের দিন দলীয় ইস্তাহার প্রকাশ করেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। পাশাপাশি ডিএমকে সরকারকে নিশানা করে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণও শানান তিনি। ইস্তাহার প্রকাশের মঞ্চে নাড্ডা বলেন, তামিল নববর্ষের শুভ দিনে ইস্তাহার প্রকাশ করা ‘মঙ্গলজনক’। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এদিন ডঃ বি আর আম্বেদকরের ১৫০তম জন্মবার্ষিকীও। নাড্ডার বক্তব্য, তামিলনাড়ু বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতার অন্যতম পীঠস্থান। তিনি থিরুভাল্লুভার এবং সুব্রহ্মণ্য ভারতীর মতো মনীষীদের স্মরণ করে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন।

ইস্তাহারে বিজেপি মহিলাদের জন্য একাধিক আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ধাঁচে নতুন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির নাম জানা না দলের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিবারের মহিলা প্রধানদের প্রতি মাসে ২০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য, বছরে ৩টি বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার, কর বৃদ্ধি ও মূল্যবৃদ্ধির ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে এককালীন ১০,০০০ টাকা সহায়তা করা হবে। এছাড়া ইস্তাহারে আরও বলা হয়েছে, যোগ্য মহিলাদের ই-স্কুটার কেনার জন্য ২৫,০০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে। এককথায় বলাই যায়, তামিলনাড়ু জিততে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই হাঁটল বিজেপি।

সেইসঙ্গে গ্রামীণ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ জল্লিকাট্টু নিয়েও বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। ইস্তাহার অনুযায়ী, জল্লিকাট্টু ষাঁড় প্রতিপালনকারীদের প্রতি মাসে ২০০০ টাকা সহায়তা, জল্লিকাট্টু প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে বলেও জানান হয়েছে। পাশাপাশি নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিজেপি ঘোষণা করেছে, প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহী মহিলাদের জন্য ৩ শতাংশ স্ট্যাম্প ডিউটি ছাড় দেওয়া হবে। এছাড়া গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য ৮,০০০ টাকার কুপন সহ বিভিন্ন সহায়তা প্রকল্প চালু রাখার কথাও ইস্তাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ইস্তাহার প্রকাশের সময় জেপি নাড্ডা ডিএমকে সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, তামিলনাড়ুতে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি তিনি ডিএমকে-কে ‘পরিবারতন্ত্র’ ও ‘দুর্নীতির রক্ষক’ বলে কটাক্ষ করেন।

রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা উন্নত করতে বিজেপির তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে জিরো এফআইআর কার্যকর করা, গুরুতর অপরাধের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত, নিরাপত্তা জোরদার করতে বাস, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে এক দফায় ভোটগ্রহণ হবে। এই নির্বাচন শাসক ডিএমকে-র সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এআইএডিএমকে এবং বিজেপি জোট ফের ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে। পাশাপাশি বিজয়ের টিভিকে প্রথমবার নির্বাচনে লড়ে বড় প্রভাব ফেলতে চাইছে।