রাজ্যের খবর

‘ট্রাম্পের হাতে মোদির রিমোট কন্ট্রোল’! এপস্টিন ফাইলস নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে তোপ রাহুলের

আদানি না কি ‘মোদানি’? বিজেপির সব টাকা কার কাছে? রায়গঞ্জের সভা থেকে বড় দুর্নীতির পর্দাফাঁস রাহুলের।

Truth of Bengal: ভোটের মুখে বঙ্গ রাজনীতিতে এবার ‘এপস্টিন ফাইলস’ ও ‘ট্রাম্প-ভীতি’র বোমা ফাটালেন রাহুল গান্ধী। সোমবার বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানালেন কংগ্রেসের এই হেভিওয়েট নেতা। রাহুলের দাবি, আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে মোদির ‘রিমোট কন্ট্রোল’ রয়েছে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী আদতে দেশ বিক্রি করে দিচ্ছেন।

মোদী-ট্রাম্পের গোপন আঁতাঁত নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করে রাহুল বলেন, “নরেন্দ্র মোদির পুরো কন্ট্রোল এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। আমেরিকার সঙ্গে মোদিজি যে সমঝোতা করেছেন, তাতে বিজেপির কিছু হবে না, কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ, শ্রমিক এবং ছোট ব্যবসায়ীরা শেষ হয়ে যাবেন। আসলে তিনি দেশকে বিক্রি করে দিয়েছেন।” ‘এপস্টিন ফাইলস’ প্রসঙ্গ টেনে রাহুল আরও যোগ করেন, “আপনারা এপস্টিন ফাইলের কথা শুনেছেন? সেখানে বিজেপির নেতা ও মন্ত্রীদের নাম ফেঁসে রয়েছে। আর সেই ফাইলের চাবি ট্রাম্পের হাতে। তাই ট্রাম্প যখন মোদিকে লাফাতে বলেন, তিনি লাফ দেন। বসার আদেশ দিলে বসে পড়েন।”

আদানি ইস্যু নিয়ে ‘মোদানি’ খোঁচা দিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, মোদি এক নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করেছেন যেখানে বিজেপির সব অর্থ এক জায়গায় গচ্ছিত থাকে। তিনি বলেন, “বিজেপি আর আদানি গোষ্ঠী এখন একই সুতোয় গাঁথা। আদানি বিজেপিকে টাকা ও সাপোর্ট দেয়, আর বিজেপি আদানির জন্য কাজ করে। এটা আদানি নয়, আসলে ‘মোদানি’ সংস্থা।”

এদিন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ইমেজ নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাহুল। ৫৬ ইঞ্চির ছাতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সংসদে যখনই আমি আদানি বা এপস্টিন নিয়ে কথা শুরু করি, মোদিজির হাওয়া বেরিয়ে যায়। ৫৬ ইঞ্চির ছাতি হতে পারে, কিন্তু চোখে চোখ রেখে কথা বলার দম ওঁর নেই। লোকসভায় আমি বলতে শুরু করলেই উনি উঠে পালিয়ে যান।” রাহুলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা দেশে মোদী এখন যে মেজাজে ঘুরছেন, তাতে স্পষ্ট যে তিনি ভয় পেয়েছেন।

শেষে আরএসএস ও বিজেপির ‘ঘৃণার রাজনীতি’র বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে রাহুল বলেন, “আমাদের লড়াই আরএসএসের ঘৃণাভরা চিন্তাধারার বিরুদ্ধে। ভারত জোড়ো যাত্রায় ৪০০০ কিলোমিটার হেঁটে আমি একটাই বার্তা দিয়েছি- ঘৃণার বাজারে ভালোবাসার দোকান খুলতে হবে। ভালবাসা আর একতা দিয়েই দেশের উন্নতি সম্ভব।” ভোটের প্রাক্কালে রাহুলের এই আক্রমণ বাংলার রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল।

Related Articles