কলকাতা

Rajnya Haldar: ছাব্বিশের ভোটের আগেই কী দল-বদল? সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের ‘সেনসেশন’ নেত্রীর পোস্ট ঘিরে জল্পনা

সোমবার নিজের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করেছেন রাজন্যা হালদার।

Truth of Bengal: রাজনীতিতে উত্থান-পতন নতুন নয়। কিন্তু তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) একদা ‘সেনসেশন’ নেত্রী রাজন্যা হালদার-এর সাম্প্রতিক গতিবিধি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তুখোড় বক্তৃতার পর উল্কার গতিতে উত্থান হওয়া এই ছাত্রনেত্রী এক বছরের মধ্যেই দলের বিরাগভাজন হন। এবার ইঙ্গিতেই তিনি দিলেন ‘পরিবর্তনের’ বার্তা। সূত্রের খবর, আজ দুপুরেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে পারেন রাজন্যা হালদার ও প্রান্তিক চক্রবর্তী-সহ আরও কয়েকজন ছাত্রনেতা। সোমবার নিজের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করেছেন রাজন্যা হালদার। স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে মালা দেওয়া সেই ছবির ক্যাপশনটি অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। তিনি লিখেছেন, “আমার বাংলা রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। গণতন্ত্র ধার চাই।” এর ঠিক নীচে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “লেটস চেঞ্জ”। হঠাৎ এই পরিবর্তনের আহ্বানেই জল্পনার পারদ চড়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর আরজি কর হাসপাতালের ছবি-বিতর্ক নিয়ে দলের ‘দাদা-সংস্কৃতি’র বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পরই রাজন্যা ও তাঁর সহকর্মী প্রান্তিক চক্রবর্তী-কে তৃণমূল থেকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করা হয়। এরপর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁদের দূরত্ব তৈরি হয়। সেই সময় ‘প্রতিবাদী মুখ’ হিসেবে পরিচিত এই জুটির কাছে বিজেপি নেতা সজল ঘোষের ফোন এলেও তাঁরা তখন বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিলেন। এই জল্পনার সূত্রপাত হয়েছিল গত দুর্গাপূজার সময়। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ডেড থাকা সত্ত্বেও রাজন্যা-প্রান্তিক জুটিকে প্রথমে বিজেপি নেতা সজল ঘোষের পুজোয় এবং পরে মহাষ্টমীর দিন বিজেপির অন্য একটি পুজোয় দেখা যায়। তখনই তাঁদের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। সেই জল্পনাই আজ চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। রাজন্যা-প্রান্তিকের বিজেপিতে যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই যোগাযোগ করা হয় রাজন্যার সঙ্গে। তবে তিনি এখনই এই বিষয়ে হ্যাঁ বা না, কোনও সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। শুধু জানিয়েছেন, “রাজনীতি তো সবসময়ই একটা সম্ভাবনার জায়গা। সেই সম্ভাবনার কথা সবাই বলছে। সম্ভাবনা একটা তৈরি হয়েছে।

সূত্রের খবর, সোমবার দুপুর ২টোয় সল্টলেকের বিজেপি দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের যোগদানপর্ব সম্পন্ন হতে পারে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি সত্যিই তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেন, তবে যোগদানের পরেই তৃণমূল ছাড়ার কারণ প্রসঙ্গে মুখ খুলবেন এই দুই ছাত্রনেতা। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২১ জুলাই ধর্মতলার শহিদ দিবসের মঞ্চে রাজন্যার সংক্ষিপ্ত কিন্তু দৃঢ় বক্তৃতা রাজ্য রাজনীতিতে তাঁকে রাতারাতি ‘সেনসেশন’ করে তুলেছিল। তুখোড় উত্থানের ফলে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে TMCP ইউনিটের সভানেত্রীও হয়েছিলেন। কিন্তু সেই উত্থান স্থায়ী হল না। এক বছরের মধ্যেই দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলে তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের বিরাগভাজন হন। এখন দেখার, রাজনীতিতে তাঁর এই ‘পরিবর্তনের’ সিদ্ধান্ত ছাত্রনেতার ভূমিকা থেকে তাঁকে কোন নতুন পথে নিয়ে যায়।

Related Articles