কলকাতা

কলকাতার দুর্গাপুজোতেও পালাবদল? তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা হারতেই উৎসবে গৈরিকীকরণের আভাস!

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে কলকাতার দুর্গাপুজো কমিটিগুলোর অন্দরে

Truth of Bengal: রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে কলকাতার দুর্গাপুজো কমিটিগুলোর অন্দরে। দীর্ঘদিনের নীল-সাদা প্রভাব সরিয়ে শহরের বড় বড় পুজোগুলোতে এখন গেরুয়া আবাহন। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয় এবং বিজেপির জয়ের পর শহরের নামী পুজোগুলোর সমীকরণ রাতারাতি বদলে যাচ্ছে। এতদিন যে সমস্ত পুজোর ফ্লেক্স বা ব্যানারে চেয়ারম্যান কিংবা আহ্বায়ক হিসেবে তৃণমূল বিধায়কদের নাম জ্বলজ্বল করত, সেখানে এখন নতুন বিজেপি বিধায়কদের জায়গা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন পুজোকর্তারা।

সংসদীয় গণতন্ত্রের এই স্বাভাবিক নিয়মকে মেনে নিয়েই এগোতে চাইছেন শহরের ক্লাব কর্মকর্তারা। রাসবিহারী, টালিগঞ্জ, যাদবপুর, জোড়াসাঁকো কিংবা কাশীপুর-বেলগাছিয়ার মতো এলাকায় এবার তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। ফলে অরূপ বিশ্বাস, শশী পাঁজা, দেবাশিস কুমার কিংবা অতীন ঘোষদের মতো প্রভাবশালী নেতাদের জায়গায় এখন পুজো কমিটিগুলোতে ডাক পেতে চলেছেন নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়করা। পুজো উদ্যোক্তাদের মতে, উৎসবের আয়োজনে প্রশাসনিক সহযোগিতার প্রয়োজন অপরিহার্য, আর সেই কারণেই জয়ী জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় রাখা জরুরি।

দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম প্রাচীন পুজো নেতাজি জাতীয় সেবাদল এবার ৭৬ বছরে পা দিচ্ছে। এই পুজোর সভাপতি কৌশিক বণিক জানিয়েছেন যে, টালিগঞ্জের পরাজিত বিদায়ী বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস এতদিন এই পুজোর সঙ্গে নামমাত্র যুক্ত থাকলেও সরাসরি কমিটিতে ছিলেন না। তবে এবার এই কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীকে তাঁরা সাদরে আমন্ত্রণ জানাতে প্রস্তুত। একই সুর শোনা যাচ্ছে উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী টালা প্রত্যয়ের অন্দরেও। ১০১ বছরে পদার্পণ করা এই পুজোর এলাকায় এবার তৃণমূলের অতীন ঘোষকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির রীতেশ তিওয়ারি। পুজোর সাধারণ সম্পাদক শান্তনু ঘোষের মতে, থিম বা পরিকল্পনা অপরিবর্তিত থাকলেও প্রশাসনিক কাজের স্বার্থে নতুন বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাওয়াটাই দস্তুর।

পুজো কমিটির সদস্যদের অনেকের মতেই, শাসনক্ষমতার পরিবর্তন হলেও উৎসবের আনন্দ বা ঐতিহ্য থমকে থাকে না। রাজা আসে যায়, পতাকার রং বদলায়, কিন্তু পুজোর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। বড় বাজেটের পুজো করার ক্ষেত্রে কাউন্সিলর, বিধায়ক বা সাংসদদের সহযোগিতা ছাড়া কাজ চালানো অসম্ভব। তাই রাজনৈতিক রং বিচার না করে জনস্বার্থেই নতুন বিধায়কদের পুজো কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে শহরজুড়ে। ওলটপালট হওয়া রাজনৈতিক মানচিত্রের সাথে তাল মিলিয়ে এভাবেই নতুন রূপে সেজে উঠছে কলকাতার পুজো সমাজ।

Related Articles