খাদ্য ভবনের ৫ তলা থেকে হঠাৎ নিচে আছাড়! এসএসকেএম-এ ভর্তি যুগ্ম সচিব, কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?
রক্তাক্ত শরীর, চোখে-মুখে মারাত্মক আঘাত! এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন নোডাল অফিসার ইন্দ্রজিৎ
Truth of Bengal: সপ্তাহের প্রথম দিনেই কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত রাজ্য সরকারের খাদ্য ভবনে ঘটে গেল এক চরম শিউরে ওঠার মতো ঘটনা। সোমবার সকালে খাদ্য ভবনের পাঁচতলা থেকে নিচে আছড়ে পড়লেন এক উচ্চপদস্থ নোডাল অফিসার। এই মারাত্মক দুর্ঘটনার জেরে সরকারি দফতরের ভেতরে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় ওই আধিকারিককে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
জখম আধিকারিক আসলে কে?
পুলিশ ও খাদ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচতলা থেকে পড়ে যাওয়া ওই আধিকারিকের নাম ইন্দ্রজিৎ ভট্টাচার্য। তিনি খাদ্য বিপণন দফতরের নোডাল অফিসার এবং রাজ্য সরকারের যুগ্ম সচিব (Joint Secretary) পদমর্যাদার একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমলা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ওপর থেকে কংক্রিটের মেঝেতে আছড়ে পড়ার কারণে তাঁর মাথায়, চোখে এবং মুখে অত্যন্ত গুরুতর আঘাত লেগেছে। ঘটনার পর তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়।
বিকট শব্দ আর তারপরেই চিৎকার!
খাদ্য ভবনের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, সোমবার সকালে দফতরের কাজ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা একটি বিকট শব্দ শুনতে পান তাঁরা। প্রথমটায় কেউ কিছু বুঝতে না পারলেও, শব্দ লক্ষ্য করে যখন চারতলার করিডোর ও একতলার চত্বরে সবাই ছুটে যান, তখন দেখেন মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন যুগ্ম সচিব ইন্দ্রজিৎ ভট্টাচার্য।
ঘটনার সময় খাদ্য ভবনের একতলায় বসেছিলেন দফতরের এক সরকারি গাড়ির চালক অজয় দাস। ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত অজয়বাবু বলেন, ‘‘আমরা কয়েকজন চালক নিচে বসে গল্প করছিলাম। হঠাৎ দেখলাম উপর থেকে একটা মানুষ হুড়মুড়িয়ে নীচে এসে পড়লেন। আমরা সবাই চিৎকার করে ছুটে যাই। তখন ওঁর শরীরে কোনও জ্ঞান ছিল না। সহকর্মীরা মিলে ধরাধরি করে ওনাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।’’
দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু? ঘনীভূত রহস্য
খাদ্য ভবনের মতো একটি হাই-সিকিউরিটি সরকারি অফিসের পাঁচতলা থেকে কীভাবে একজন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার অফিসার নিচে পড়ে গেলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এটি কি স্রেফ অসাবধানতাবশত কোনও দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়নি। ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে এবং খাদ্য ভবনে পৌঁছেছে পুলিশ। অফিসের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার আসল কারণ জানার চেষ্টা করছে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ। এই ঘটনায় গোটা নবান্নের অলিন্দেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।






