কলকাতা

স্কুলপড়ুদের নিরাপত্তায় কোনও ছাড় নয়, পুলকার নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশ পরিবহণ দফতরের

পরিবহণ দফতর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভবিষ্যতে পড়ুয়া বহনকারী সমস্ত গাড়ি প্রতিবছর সিএফ করানো হবে।

Truth Of Bengal: রাজ্যজুড়ে পড়ুয়াদের স্কুলে আনা-নেওয়ার জন্য নানা ধরনের যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে—কোথাও টোটো, কোথাও ম্যাজিক গাড়ি, কোথাও ম্যাক্সি ক্যাব আবার কোথাও ওমনি ভ্যান। অনেক ক্ষেত্রেই এই গাড়িগুলো অবৈধভাবে বা পুলকার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এই সমস্যা মোকাবিলায় পরিবহণ দফতর সচেতন হয়েছে। সোমবার পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে পুলিশ, স্কুল শিক্ষা দফতর এবং পরিবহণ দফতরে কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার এবং আরটিওও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পুলকার সংগঠনগুলোকে জানানো হয়, ব্যক্তিগত গাড়িতেও পড়ুয়াদের আনা-নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু অনেক গাড়ি রাস্তায় চলার অযোগ্য—সিএফ বা ইনস্যুরেন্স নেই।

পরিবহণ দফতর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভবিষ্যতে পড়ুয়া বহনকারী সমস্ত গাড়ি প্রতিবছর সিএফ করানো হবে। পরিবহণমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, “লজঝড়ে গাড়িতে পড়ুয়াদের বহন করা যাবে না।” ব্যক্তিগত গাড়িকে তিন মাসের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে রূপান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্কুলবাস ও পুলকার সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

পড়ুয়াদের নিরাপত্তার জন্য গাড়ির ফিটনেস, সিএফ, লাইসেন্স, চালকের নাম ও ফোন নম্বর সব তথ্য ঠিক রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পুলকারে একজন অ্যাটেন্ডেন্ট রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট রঙের গাড়ি ব্যবহার, সামনের অংশে ‘অন স্কুল ডিউটি’ বোর্ড, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং ভিএলটিডি লাগানোসহ একগুচ্ছ নিয়ম মানার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

পরিবহণ দপ্তর স্কুল কর্তৃপক্ষকেও নির্দেশ দিয়েছে গাড়ির তালিকা নির্দিষ্ট রাখার, পরিবহণ ব্যবস্থাপনার জন্য একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োগের এবং ট্রাফিক আইন বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষিত করার। পুলকার ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ দত্ত বলেন, “আমরা সমস্ত নিয়ম মেনে গাড়ি চালাই। প্রশাসনের উচিত বেআইনি পুলকার বন্ধ করা।” এছাড়া টোটো সংক্রান্ত বৈঠকেও প্রতিটি জেলার রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।