কলকাতা

ফলঘোষণার ২৭ দিন পরেও ‘ভোটচুরি’ তত্ত্বে অনড়! বাংলার জনাদেশ মানতে নারাজ মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট দাবি— তিনি হারেননি, বরং বিজেপি কারচুপি করে তাঁকে হারিয়েছে

Truth of Bengal: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। গণনা শুরু হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল সাম্রাজ্য, আর নবান্নের রাশ চলে গিয়েছিল পদ্মশিবিরের হাতে। আজ সেই ঐতিহাসিক ফল ঘোষণার পর ২৭ দিন পার হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসে গিয়েছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যে শুরু হয়েছে নতুন নীতিতে পথ চলা। কিন্তু পরাজয়ের প্রায় এক মাস কাটতে চললেও নিজের দাবিতে এখনও অনড় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিকেলে কালীঘাটের বাসভবন থেকে এক দীর্ঘ ফেসবুক লাইভ (Facebook Live) করেন তিনি। সেখানে আবারও তাঁর মুখে শোনা গেল নির্বাচনের ‘রিগিং তত্ত্ব’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট দাবি— তিনি হারেননি, বরং বিজেপি কারচুপি করে তাঁকে হারিয়েছে।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে কার্যত গেরুয়া ঝড় বয়ে গিয়েছে। ২০৮টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গড়েছে বিজেপি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নিজের খাসতালুক ভবানীপুর আসনটিও ধরে রাখতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি এই মুহূর্তে তিনি বিধায়ক পদও খুইয়েছেন। তবে এই জনরায়কে কোনওভাবেই মানতে রাজি নন তৃণমূল সুপ্রিমো। সোমবারের লাইভে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন: “বাংলাকে টার্গেট করে হারানো হয়েছে। রাজ্যের প্রায় ১৭৭টি সিটে আপনারা (বিজেপি) রিগিং করেছেন, আমার কাছে সব খবর আছে। আমাকে মারতে মারতে কাউন্টিং সেন্টার থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। যখন বের করা হয়, তখনও আমি এগিয়েছিলাম। তারপর জোর করে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হলো।” নিজেদের প্রার্থীদের পরাজয় নিয়ে রাজারহাট-নিউটাউনের উদাহরণ টেনে মমতা আরও বলেন, “আমাদের তাপস চট্টোপাধ্যায় তো জিতেই গিয়েছিল। পরের দিন জোর করে রিকাউন্টিং (পুনরায় গণনা) করানো হলো, তারপর দেখানো হলো ও নাকি ৩০০ ভোটে হেরে গিয়েছে! এই জালিয়াতি মানুষ মেনে নেবে না।”

এদিনের লাইভ থেকে শনিবার সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হওয়া হামলার ঘটনা নিয়ে নজিরবিহীন ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নতুন বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “অভিষেককে যেভাবে প্ল্যান করে অ্যাটাক (আক্রমণ) করা হলো, তা শিউরে ওঠার মতো। ও একটা ছোট্ট গলির ভেতর আটকে গিয়েছিল। মাথায় যদি হেলমেটটা না থাকত, তবে ওখানেই স্পট ডেথ (ঘটনাস্থলেই মৃত্যু) হয়ে যেতে পারত। আর যারা ওকে বাঁচাতে গেল, উলটে পুলিশ তাঁদেরই গ্রেপ্তার করল!” এই ঘটনার পর রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পাল্টা মন্তব্যেরও কড়া জবাব দেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, “বিজেপির সভাপতি বলছেন— ও তো বেঁচে আছে! বাহ্‌, আপনারাও তো এতদিন বেঁচে ছিলেন। গত ১৫ বছর আপনাদের আমরা দুধে-ভাতে রেখেছিলাম, কোনওদিন গায়ে হাত দিইনি। আর আপনারা ক্ষমতায় এসেই যা করছেন, লোকে ধিক্কার দিচ্ছে। আয়নায় নিজেদের মুখ দেখুন। আমাদের মিটিং-মিছিল করার পারমিশন (অনুমতি) পর্যন্ত দিচ্ছেন না।” রাজ্যজুড়ে হকার উচ্ছেদ, জেলা স্তরে তৃণমূল কর্মীদের হেনস্তা এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে চাপ দেওয়ার বিরুদ্ধে এদিন সরব হন মমতা। নতুন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “এভাবে ভয় দেখিয়ে, পুলিশ দিয়ে তৃণমূলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তৃণমূলকে আপনারা ভাঙতে পারবেন না। এই ধাক্কার পর আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ঘুরে দাঁড়াব।”

Related Articles