বড় বিপর্যয় সামলানোর ক্ষমতা নেই! শহরের সরকারি হাসপাতালের ‘দূর্বলতা’ স্বীকার শুভেন্দুর
খামতি ঢাকল না নতুন সরকার! কলকাতার সরকারি হাসপাতালের আসল রূপ ফাঁস করে দিলেন শুভেন্দু
Truth of Bengal: কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলির কঙ্কালসার দশা এবং বড় কোনও বিপর্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে পরিকাঠামোর চরম অভাব নিয়ে এবার খোদ স্বাস্থ্যভবনে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক সত্য স্বীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সকালে আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যভবনে গিয়ে দফতরের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠক সারেন তিনি। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে বর্তমানে ৫০ বা ১০০ জনের চিকিৎসা করা সম্ভব হলেও, ২৫০ জন রোগীকে ১ মিনিটে প্রাথমিক পরিষেবা দেওয়ার মতো কোনও ক্ষমতা কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলির নেই।
বৃহস্পতিবার নবান্নে যাওয়ার আগে কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আচমকা সল্টলেকের স্বাস্থ্যভবনে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং স্বাস্থ্য দফতরের প্রধান সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন তিনি। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা কীভাবে ধ্বংস হয়েছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তারাতলার সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা দেখার পরেই আমি কলকাতায় একটি আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার তৈরিতে জোর দিয়েছি। কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটলে ২৫০ জনকে ১ মিনিটে ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট দেওয়া যাবে, এমন ব্যবস্থা আমাদের সরকারি স্তরে নেই। এটা দ্রুত তৈরি করতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, কলকাতার এক একটি সরকারি হাসপাতালের চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমান বিপুল পরিমাণ ফাঁকা জমি পড়ে রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যসচিব মিলে সেই জমি খতিয়ে দেখে খুব শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রমা কেয়ার সেন্টার এবং বার্ন ইউনিটের (Burn Unit) মানোন্নয়নের জায়গা চিহ্নিত করবেন।
“কোনও নেতা-মন্ত্রীর লোক এখানে আসে না”, নিম্নবিত্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার কড়া বার্তা
সরকারি হাসপাতালের দালালচক্র এবং অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “কোনো প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রীর আত্মীয়স্বজন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসেন বলে আমার জানা নেই। বড় বড় সরকারি আধিকারিক, যাঁরা উচ্চবিত্ত সমাজভুক্ত, তাঁরা সকলেই নামী বেসরকারি হাসপাতালে যান। সরকারি হাসপাতালে আসেন কেবলমাত্র প্রান্তিক এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া দুর্বল শ্রেণির সাধারণ মানুষেরা। তাই এই দরিদ্র মানুষদের স্বাস্থ্যপরিষেবায় যাতে কোনও খামতি না থাকে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের।”
বেডের অভাবে ফিরে যাচ্ছে রোগী! পুজোর আগেই এসএসকেএম-এ ২৫০ শয্যা বাড়ানোর আশ্বাস
এদিন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পিজি বা এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের একটি খতিয়ান তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে জানান, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যেই এসএসকেএম-এ ১০০টি বেড বাড়ানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সমুদ্রের এক ফোঁটা জল মাত্র। এমনকি গতকাল বুধবারও বেডের আকালের কারণে বেশ কিছু রোগীকে অস্ত্রোপচার না করিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে, যাঁদের ১০ দিন পর আবার আসতে বলা হয়েছে। এই চূড়ান্ত ভোগান্তি বন্ধ করতে পুজোর আগেই এসএসকেএম হাসপাতালে আরও ২৫০টি নতুন বেডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।




