দেশ

বারুইপুর এনকাউন্টার ঘিরে প্রশ্ন, কী বলছে সুপ্রিম কোর্ট?

এনকাউন্টারটি কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে

Truth of Bengal; বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর থেকেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এনকাউন্টারটি কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তবে পুলিশের এনকাউন্টার সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। ২০১৪ সালে মহারাষ্ট্র সরকার বনাম পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ মামলায় শীর্ষ আদালত ১৬ দফার গাইডলাইন জারি করেছিল। ২০১৪ সালে মহারাষ্ট্র পুলিশের একাধিক এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ। তাদের অভিযোগ ছিল, এনকাউন্টারের নামে বহু ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বেআইনিভাবে হত্যা করা হচ্ছে। ভুয়ো এনকাউন্টার রুখতেই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আর এম লোধার ডিভিশন বেঞ্চ বিস্তারিত নির্দেশিকা দেয়।

সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও অভিযুক্তের গতিবিধি বা অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য গোপন সূত্রে পাওয়া গেলে তা লিখিত বা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে নথিভুক্ত করতে হবে। এনকাউন্টারে কেউ আহত হলে তাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। কারও মৃত্যু হলে দ্রুত এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং নিহতের পরিবারকে অবিলম্বে বিষয়টি জানাতে হবে। এফআইআরের কপি আদালতে জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া এনকাউন্টারে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের গোটা প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করতে হবে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া অস্ত্র, রক্তের নমুনা, আঙুলের ছাপ-সহ সমস্ত প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। এনকাউন্টারে ব্যবহৃত অস্ত্রও সুরক্ষিত রাখতে হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে অন্য থানা বা সিআইডির মতো স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে। একই সঙ্গে জাতীয় বা রাজ্য মানবাধিকার কমিশনকেও দ্রুত জানানো বাধ্যতামূলক।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, মৃতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় নথি দেখার সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তও করা যেতে পারে। তদন্তে যদি এনকাউন্টার ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়, তা হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের সাসপেন্ড করে মামলা রুজু করার কথাও নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। ভুয়ো এনকাউন্টারের ক্ষেত্রে নিহতের পরিবার ক্ষতিপূরণও পেতে পারে। পাশাপাশি এনকাউন্টার প্রকৃত বলে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারদের বীরত্বের পুরস্কার বা পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। বারুইপুর এনকাউন্টারের পর রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই পদক্ষেপ করছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি। ঘটনার পর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি এনকাউন্টারের তদন্তভার দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির হাতে। নিয়ম অনুযায়ী, যেহেতু বারুইপুর জেলা পুলিশ এই এনকাউন্টারের সঙ্গে যুক্ত, তাই একই জেলা পুলিশের পক্ষে ওই ঘটনার তদন্ত করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই পৃথক তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে সিআইডিকে শুধুমাত্র এনকাউন্টার সংক্রান্ত তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে খবর।