পৌরসভার চাকরি বেচে ২০ কোটি আত্মসাৎ সুজিতের! ২৫০ কোটির দুর্নীতিতে প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ইডির চার্জশিট
বৃহস্পতিবার জমা দেওয়া চার্জশিটে সুজিতের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে
Truth of Bengal: পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার বড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে বিশেষ ইডি আদালতে চার্জশিট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বৃহস্পতিবার জমা দেওয়া চার্জশিটে সুজিতের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইডির চার্জশিটে শুধু সুজিত বসুই নন, তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু, দুটি বেসরকারি সংস্থা এবং আমলা জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়কেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দুর্নীতির সময় জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের ডিরেক্টরেট অফ লোকাল বডিজ-এর অধিকর্তা ছিলেন। পুরনিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই দফতরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। ইডির অভিযোগ, নিজের পদ ব্যবহার করে তিনি দুর্নীতিতে মদত দেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হন।
ইডির নথিতে দাবি করা হয়েছে, পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। চার্জশিটে আরও উল্লেখ, অর্থের বিনিময়ে সুজিত বসু একাই ৩৪০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৮৪ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন বলে দাবি ইডির। প্রার্থী পিছু গড়ে ৬ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার। শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়েই পুরসভাগুলিতে নিয়োগ দুর্নীতির সূত্র পায় ইডি। সল্টলেক এবং হুগলিতে অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশির সময় পুরনিয়োগ সংক্রান্ত বিপুল নথি উদ্ধার হয়। অয়ন শীল এবং তাঁর সংস্থা এবিএস ইনফ্রাজোনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, রাজ্যের একাধিক পুরসভার নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্বে ছিল অয়ন শীলের সংস্থা। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে ওএমআর শিট—সবকিছুই ওই সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হত বলে দাবি ইডির।
সেই তল্লাশিতেই সুপারিশ সংক্রান্ত একাধিক নথি হাতে আসে গোয়েন্দাদের। উদ্ধার হয় ‘এসবি’ লেখা কিছু নথিও। তদন্ত এগোতেই দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগে বড় গরমিলের অভিযোগ সামনে আসে। সেই সময় ওই পুরসভার উপ পুরপ্রধান ছিলেন সুজিত বসু। এরপর ইডির পাশাপাশি তদন্তে নামে সিবিআইও। পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মীকে দফায় দফায় জেরা করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সুজিত বসুর করা ৪০ জনের সুপারিশের নথিও উদ্ধার হয়েছে। সুজিত ঘনিষ্ঠ নিতাই দত্তের বয়ান থেকেও উঠে এসেছে, কীভাবে অর্থের বিনিময়ে সুপারিশ এবং নিয়োগপত্র দেওয়া হত। এই বয়ানকেও চার্জশিটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইডি।
এই মামলায় সুজিত বসু এবং তাঁর ছেলে-মেয়েকেও একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত চলাকালীন কয়েকটি নির্মাণ সংস্থা, সুজিতের ছেলের ধাবা ও রেস্তরাঁর সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনও ইডির নজরে আসে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কোভিডকালে রেস্তরাঁয় কীভাবে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হল, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সুজিত বা তাঁর ছেলে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ১১ মে সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয় সুজিত বসুকে। এই মামলায় এর আগে অয়ন শীলের বিরুদ্ধেও চার্জশিট দিয়েছিল ইডি। এবার প্রায় ১২ হাজার ৫০০ পাতার নথি আদালতে পেশ করে সুজিত বসু-সহ একাধিক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।




