শংকরপুরের গভীর সমুদ্রে ১৫ মৎস্যজীবী-সহ নিখোঁজ ট্রলার, তল্লাশিতে উপকূলরক্ষী বাহিনী
পরিবারের দাবি, ট্রলারে থাকা ১৫ জন মৎস্যজীবীর সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

Truth of Bengal: গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে ১৫ জন মৎস্যজীবী-সহ নিখোঁজ একটি ট্রলার। বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত ট্রলারটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। এরপরই বিষয়টি জানানো হয়েছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ও উপকূল থানার পুলিশকে। শুরু হয়েছে নিখোঁজ ট্রলারের খোঁজে তল্লাশি অভিযান। নিখোঁজ ট্রলারটির নাম ‘মা কালী’। ট্রলারটির মালিক রামনগর থানার দেউলিবাংলা এলাকার বাসিন্দা অভিজিৎ বেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতেই ওই ট্রলারটি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রলারটি শংকরপুর মৎস্যবন্দরে ফিরে না আসায় উদ্বেগ বাড়তে শুরু করে।
পরিবারের দাবি, ট্রলারে থাকা ১৫ জন মৎস্যজীবীর সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। মোবাইল ও অন্যান্য মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও খবর পাওয়া যায়নি। এরপরই বিষয়টি জানানো হয় শংকরপুর ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন-কে। সংগঠনের তরফে প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে। সংগঠনের সম্পাদক স্বদেশরঞ্জন নায়ক জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীকে জানানো হয়েছে। নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। এদিকে খবর পেয়েই বুধবার রাতে শংকরপুর মৎস্যবন্দরে পৌঁছন মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা। নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।
জেলা মৎস্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ট্রলার নিখোঁজের খবর পাওয়ার পরই উপকূলরক্ষী বাহিনী ও উপকূল থানার পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছে। সমুদ্রে থাকা অন্যান্য ট্রলারগুলিকেও সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। সবদিক থেকে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের পাশাপাশি ট্রলার মালিক ও স্থানীয় মৎস্যজীবী মহলেও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ‘মা কালী’ ট্রলারের সন্ধান মিলবে, সেই আশাতেই এখন অপেক্ষা করছেন সকলে।






