রাজ্যের খবর

নিউটাউনে আদানির ২০০০ বেডের হাসপাতাল! গরিব-দুঃস্থদের জন্য বিশেষ পরিষেবা, ঘোষণা শুভেন্দুর

পূর্ব ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি হাসপাতাল! নিউটাউনে আদানির ২০০০ শয্যার প্রকল্পে বড় চমক মুখ্যমন্ত্রীর

Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং শিল্প বিনিয়োগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দীর্ঘ খরা কাটিয়ে অবশেষে ছাব্বিশের বাংলার বুকে আসতে চলেছে পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি বিনিয়োগ। নিউটাউনে ২০০০ শয্যার এক বিশ্বমানের অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরি করতে চলেছে দেশের প্রথম সারির শিল্পগোষ্ঠী ‘আদানি গ্রূপ’। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবন থেকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) এই মেগা প্রকল্পের রূপরেখা ঘোষণা করে রাজ্যবাসীকে এক বিরাট সুখবর দিয়েছেন।

গত শনিবার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের এক ব্যবসায়ী সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম খোলসা করেছিলেন যে, রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ভোলবদল করতে বড় অঙ্কের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের বিন্যাস স্পষ্ট করে দেন। তিনি জানান, নিউটাউনে প্রস্তাবিত এই ২০০০ বেডের হাসপাতালের মধ্যে ১০০০টি বেড সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত থাকবে রাজ্যের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের চিকিৎসার জন্য। বাকি ১০০০টি বেড বাণিজ্যিক ও প্রিমিয়াম পরিষেবার জন্য ব্যবহৃত হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ নামমাত্র খরচে বা বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা পাবেন। খুব শীঘ্রই এই হাসপাতালের ভূমিপূজো সম্পন্ন হতে চলেছে।

দাদনপাত্রবাড়ের পর এবার নিউটাউনে আদানি

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত তৃণমূল সরকারের জমানায় রাজ্যে ভারী শিল্প বা বড় বিনিয়োগ কার্যত শূন্যে এসে ঠেকেছিল। প্রতি বছর ঘটা করে ‘বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন’ (BGBS) আয়োজন করে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার মউ (MoU) স্বাক্ষরের দাবি করা হলেও, বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখেনি বাংলা। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই খরা কাটতে শুরু করেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্র বন্দর (Deep Sea Port) গড়ার আগে, এবার কলকাতার দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও পা রাখল আদানিরা, যা বাংলার কর্মসংস্থানেও জোয়ার আনবে।

“বিনিয়োগ দরকার, সরকার পাশে আছে”, বিশ্বমঞ্চে বাংলার নতুন ব্র্যান্ডিং শুভেন্দুর

এদিন স্বাস্থ্যভবনের মঞ্চ থেকে দেশের সমস্ত বড় শিল্পপতিদের বাংলায় বিনিয়োগের জন্য খোলা আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাংলায় এখন কাজের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আপনারা আসুন, আমাদের শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করুন। নতুন কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এখানে আরও বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে এবং সরকার সবরকম লাল ফিতের ফাঁস কেটে আপনাদের সহযোগিতা করবে।” আদানির এই হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার জন্য ভিন রাজ্যে বা দক্ষিণ ভারতে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Articles