কলকাতা

এবার ববিও হাত ছাড়লেন মমতার? ঋতব্রতর সঙ্গে দেখা করতেই জল্পনা তুঙ্গে

হাইভোল্টেজ সাক্ষাৎ পর্ব নিয়ে ফিরহাদ হাকিম বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Truth of Bengal: তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সেনাপতি এবং বিপদের দিনগুলির অন্যতম প্রধান ‘ডান হাত’ ফিরহাদ হাকিমও কি এবার বেসুরো? সোমবার দুপুরে রাজ্য রাজনীতিতে এই জল্পনাই তীব্র আকার ধারণ করল, যখন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র আচমকাই বিধানসভায় এসে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে উপস্থিত হন। ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের আর এক বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিরোধী দলনেতার রুদ্ধদ্বার কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে ঠিক কী বিষয়ে এবং কতটা সময় ধরে কথাবার্তা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে দিল্লিতে যখন তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরেছে, ঠিক সেই আবহেই কলকাতায় ফিরহাদের এই পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—তবে কি এবার মমতার হাত ছাড়ছেন ববি হাকিমও? যদিও এই হাইভোল্টেজ সাক্ষাৎ পর্ব নিয়ে ফিরহাদ হাকিম বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

বরাবরের দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিম রাজপথের লড়াইয়ে সবসময় তৃণমূলনেত্রীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের নজিরবিহীন ভরাডুবির মাঝেও তিনি নিজের ক্যারিশমায় জনসমর্থন ধরে রেখে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। দলের চরম দুর্দিনেও আর পাঁচজন ‘বিদ্রোহী’ নেতার মতো প্রথম দিকে তাঁকে প্রকাশ্য সুর চড়াতে দেখা যায়নি; বরং নেত্রীর ডাকে বারবার কালীঘাটের বাসভবনে ছুটে গিয়েছেন। তবে গত শুক্রবার তিনি কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দেন। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে সামলানো এই পদ ছাড়ার পর এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমোকে ধন্যবাদ জানালেও, আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন যে তাঁর বর্তমান অবস্থা এখন “ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দারের” মতো। প্রশাসনিক ক্ষমতা খর্ব হওয়ার কারণেই তিনি সাধারণ মানুষের স্বার্থে মেয়র পদ ছেড়েছেন বলে দাবি করেছিলেন এবং সেদিন বিকালেও মমতার বাড়ির বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।

সেই ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায় ফিরহাদ হাকিমের এই ‘ভোলবদল’ রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিয়েছে। সোমবার দুপুরে নিজস্ব ব্যক্তিগত গাড়ি চেপে বিধানসভায় পৌঁছনোর পরই তিনি সোজা চলে যান ঋতব্রতর ঘরে। উল্লেখ্য, এর আগে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও এক সৌজন্য সাক্ষাতে যোগ দিতে দেখা গিয়েছিল বিধায়ক ফিরহাদকে। সূত্রের খবর, সেদিন তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু সময় কথাও হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে নিজে চা পানের আমন্ত্রণও জানান। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নবান্নের সেই পর্বের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফিরহাদের একটা সূক্ষ্ম দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। আর সেই দূরত্বের জেরেই কি আজ বিরোধী দলনেতার সঙ্গে এই সাক্ষাৎ পর্ব, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে বিরোধী শিবিরের দিকে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। এমতাবস্থায় ফিরহাদের মতো হেভিওয়েট নেতার এই পদক্ষেপ ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরের ক্ষমতা বৃদ্ধির জল্পনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

Related Articles