কলকাতা

এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ, মুখ্যমন্ত্রীর ষষ্ঠ চিঠি নির্বাচন কমিশনারকে

তাঁর অভিযোগ, মানবাধিকার ও ন্যূনতম মানবিক বিবেচনাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই এই সংশোধনী প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

Truth Of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে চলা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ফের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাঠানো চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, জন প্রতিনিধিত্ব আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধির বাইরে গিয়ে একতরফা ভাবে এমন এক পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মানবাধিকার ও ন্যূনতম মানবিক বিবেচনাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই এই সংশোধনী প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮,১০০ মাইক্রো-অবজার্ভার মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন। অথচ এই মাইক্রো-অবজার্ভারদের ভূমিকা, ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব জন প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ কিংবা ভোটার নিবন্ধন বিধি, ১৯৬০— কোনও আইনেই নির্দিষ্ট নয়। যথাযথ প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা ছাড়াই তাঁদের একটি সংবেদনশীল ও আধা-আদালতীয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংশোধন, দাবি-আপত্তি শুনানি, নথি যাচাই ও অন্তর্ভুক্তি বা বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা রয়েছে ইআরও ও এইআরও-দের হাতে। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় তাঁদের কার্যত ক্ষমতাহীন করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, ত্রিপুরা ক্যাডারের চার জন আইএএস আধিকারিককে অতিরিক্ত অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কয়েক জন অবজার্ভার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে বেআইনি ভাবে ইআরওনেট পোর্টালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তথ্য বিকৃত করছেন। এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক যোগ্য ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ‘ব্যাকডোর’ চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এই মাইক্রো-অবজার্ভাররা আদৌ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নাকি শুধুমাত্র পর্যবেক্ষক, তা স্পষ্ট নয়। পশ্চিমবঙ্গে যে পদ্ধতিতে এসআইআর চালানো হচ্ছে, তা অন্য রাজ্যগুলির থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বলেও দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। পরিবার রেজিস্টার, ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের মতো নথির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বৈষম্যের অভিযোগ তোলা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের সর্বত্র এক আইন কার্যকর থাকার পরও পশ্চিমবঙ্গে আলাদা নিয়ম প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এই প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।

Related Articles