মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সুনেত্রা পওয়ার
রাজভবনে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত।
Truth Of Bengal: প্রয়াত অজিত পওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পওয়ার শনিবার মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। রাজভবনে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ারের মৃত্যু হয়। তাঁর প্রয়াণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির অন্দরে দলীয় ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সূত্রের খবর, এনসিপির ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট প্রফুল প্যাটেল-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আলাদা করে কথা বলেন সুনেত্রার সঙ্গে। সেই বৈঠকের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অজিতের অনুপস্থিতিতে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে সুনেত্রাকেই বসানো হবে।
শনিবার এনসিপির বিধান পরিষদীয় দলের বৈঠকে প্রবীণ নেতা ছগন ভুজবল সুনেত্রা পওয়ারের নাম পরিষদীয় নেতা হিসেবে প্রস্তাব করেন। দলের সব বিধায়কের সম্মতিতে তিনি পরিষদীয় নেতা নির্বাচিত হন। এরপরই উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে রাজভবনে যান সুনেত্রা।
৬২ বছর বয়সি সুনেত্রা পওয়ার মারাঠা রাজনীতিতে ‘বহিনি’ বা ‘বউদি’ নামেই বেশি পরিচিত। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বারামতী কেন্দ্র থেকে তিনি সুপ্রিয়া সুলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই নির্বাচনে পরাজিত হলেও পরে ১৮ জুন রাজ্যসভায় মনোনীত হন তিনি। তবে বর্তমানে তিনি মহারাষ্ট্র বিধানসভার সদস্য নন। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁকে উপনির্বাচনে জয়ী হতে হবে অথবা বিধান পরিষদের সদস্য হতে হবে। অজিত পওয়ারের মৃত্যুর ফলে বারামতী আসনটি শূন্য হওয়ায়, এই কেন্দ্র থেকেই সুনেত্রা নির্বাচিত হতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
এদিকে সুনেত্রার উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের ঘটনায় দুই পওয়ারের দুই এনসিপির সম্ভাব্য পুনর্মিলন কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। জেলা পরিষদের নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ৮ ফেব্রুয়ারি দুই শিবিরের পুনর্মিলন ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অজিত পওয়ারের আকস্মিক মৃত্যু সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে।
অজিত জীবিত থাকলে ঐক্যবদ্ধ এনসিপির নেতৃত্বে তিনিই এগিয়ে থাকতেন বলে দলীয় সূত্রের মত। তাঁর মৃত্যুর পর নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এনসিপির অন্দরে অনেকেই মনে করছিলেন, প্রবীণ শরদ পওয়ার অথবা তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলের হাতেই ঐক্যবদ্ধ দলের দায়িত্ব থাকা উচিত। কিন্তু সেই সব আলোচনা চলার মাঝেই সুনেত্রার উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়া নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শরদ পওয়ারের দাবি, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর সঙ্গে পরিবারের কোনও আলোচনা হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি শরদ পওয়ারের নেতৃত্ব মানতে চাইছেন না সুনেত্রা ও তাঁর অনুগামীরা? আদৌ কি ভবিষ্যতে এনসিপির দুই শিবিরের পুনর্মিলন সম্ভব হবে?


