রাজ্যের খবর

“ভয় কী! ধামসা-মাদল বাজাতে বাজাতে বুথে যান,” ঝাড়গ্রামে আদিবাসীদের বিশেষ ‘টোটকা’ মুখ্যমন্ত্রীর

নির্বাচনের দিন আদিবাসী ভোটারদের বাধা দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী

Truth of Bengal: কেশিয়াড়ির পর শনিবার ঝাড়গ্রামের জামদা সার্কাস ময়দানে হুঙ্কার ছাড়লেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জঙ্গলমহলের এই সভা থেকে একদিকে যেমন আদিবাসী সমাজকে বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন, তেমনই খাদ্যাভ্যাস ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে বিজেপিকে তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন আদিবাসীদের ভাবাবেগকে গুরুত্ব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, বিধানসভা নির্বাচনে জিতে তৃণমূল ফের ক্ষমতায় ফিরলে আদিবাসীদের সারি ও সরনা ধর্মকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম না করে বিরসা মুন্ডার মূর্তিতে ভুল মালা দেওয়া নিয়ে পুরনো বিতর্ক উসকে দিয়ে বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ তকমা দেন তিনি।

বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে খাদ্যাভ্যাসের ওপর কড়াকড়ির অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “অন্য রাজ্যে মাছ-মাংস খেতে দেওয়া হয় না। আমরা তো কাউকে বলি না যে ছাতু খাবেন না! কে কী খাবেন, কে কী পরবেন— সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। এতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই। বাংলায় আমি এসব হতে দেব না।” মাওবাদীদের নাম না করে ২০১১ সালের স্মৃতিচারণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ক্ষমতায় এসেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে সমস্ত বিপথগামী যুবক-যুবতী আত্মসমর্পণ করবেন, তাঁদের হোমগার্ডের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি পালন করে জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

নির্বাচনের দিন আদিবাসী ভোটারদের বাধা দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার মোকাবিলায় এক অভিনব পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “ভোটের দিন আপনাদের ধামসা আর মাদল আছে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ধামসা-মাদল বাজাতে বাজাতে আর ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে করতে বুথে যাবেন। আমাদের তিরন্দাজেরা খুব শক্তিশালী।”

Related Articles