কলকাতা

“কলেজে কলেজে উড়বে গেরুয়া আবির!” যাদবপুরের ঘটনায় এবার ছাত্র ভোটের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘর্ষ এবং অশান্তির ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছিল রাজ্য সরকার

Truth of Bengal: দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ জমেছিল পড়ুয়া ও বিরোধী শিবিরের একাংশে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই নির্বাচন দ্রুত করানোর দাবিও জোরালো হয়েছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ছাত্র ভোট করানোর আবেদন জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘর্ষ এবং অশান্তির ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছিল রাজ্য সরকার। এবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার যাদবপুরে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ছাত্র সংসদের নির্বাচন হবে, কলেজে কলেজে গেরুয়া আবির উড়বে।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্র ভোট নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছিল ক্যাম্পাস। ওই ঘটনার পর এবিভিপি-র তরফে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন করানোর দাবি আরও জোরালো করা হয়। সংগঠনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ছাত্র ভোট না হওয়ায় গণতান্ত্রিক ভাবে ছাত্র সংসদ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়নি। যাদবপুরে সাম্প্রতিক অশান্তির সূত্রপাতও হয়েছিল ছাত্র সংসদের সাধারণ সভা বা জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে। এবিভিপির প্রশ্ন ছিল, কার্যকর ছাত্র সংসদ না থাকলে সাধারণ সভা কীভাবে ডাকা হচ্ছে? সেই বিতর্ক থেকেই পরিস্থিতি ক্রমে সংঘর্ষে গড়ায়। এরপর বিভিন্ন মহল থেকে দাবি ওঠে, নিয়ম মেনে নির্বাচন করিয়ে নতুন ছাত্র সংসদ গঠন করা হোক। সেই আবহেই শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, শীঘ্রই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে। একই সঙ্গে এবিভিপি-র সাফল্য নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “সব জায়গায় জিতবে এবিভিপি। কলেজে কলেজে উড়বে গেরুয়া আবির। আর কারও কোনও সুযোগই নেই।”

ছাত্র রাজনীতিকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম ক্ষেত্র বলে মনে করেন অনেকেই। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ছাত্র ও যুব রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকেও ছাত্র-যুব রাজনীতির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক তাৎপর্যও যথেষ্ট। দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের অধিকাংশ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। সেই কারণে পড়ুয়াদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভও ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর শুক্রবারের মন্তব্যে এবার সেই অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের বহু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবিভিপি-র সংগঠন এখনও তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ছাত্র সংসদ নির্বাচন শুরু হলে তাদের কাছে নতুন করে সংগঠন বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে নির্বাচন কবে হবে এবং কী পদ্ধতিতে হবে, তা নিয়ে সরকারের তরফে এখনও নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।

Related Articles