মহাপ্রলয়ের মাঝেও বিদেশি সাহায্যের No Entry! নেপালের হঠাৎ চরম সিদ্ধান্তে তাজ্জব আন্তর্জাতিক মহল
৫০০ প্রাণহানি, হাজার হাজার নিখোঁজের মধ্যেও সাহায্য ফেরাল কাঠমান্ডু! নেপালের পেছনে চিনের চাল?
Truth of Bengal: পাহাড়ি নদী ও কাদার তোড়ে মৃত্যুমিছিল ৫০০ ছুঁইছুঁই। সরকারি খাতাতেই নিখোঁজ হাজারেরও বেশি মানুষ। প্রাকৃতিক এই চরমতম বিপর্যয়ে তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপাল কার্যত চুরমার হয়ে গেলেও বিদেশি কোনও দেশের উদ্ধারকারী দল নিতে স্পষ্ট অস্বীকার করল বালেন্দ্র শাহের সরকার। ভয়াল হড়পা বানে বিপর্যস্ত দেশটিতে যখন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের প্রবেশ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, ঠিক তখনই কাঠমান্ডুর এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, “এই ধরণের প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগে বন্ধু রাষ্ট্রগুলির পক্ষ থেকে সাহায্যের হাত বাড়ানোটা খুবই স্বাভাবিক। তবে আমাদের নিজস্ব সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীই পূর্ণ দক্ষতায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এই মুহূর্তে বাইরে থেকে কোনও বিশেষ উদ্ধারকারী দল ডাকার প্রয়োজন অনুভব করছি না আমরা।” উল্লেখ্য, গত বুধবার দুর্যোগের ভয়াবহতা দেখে ভারত, চিন, আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ সরাসরি নেপালে বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর লিখিত প্রস্তাব দিয়েছিল। কাঠমান্ডু সেই উদ্ধারকারী দলের প্রবেশ প্রস্তাব খারিজ করলেও প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও ত্রাণ সামগ্রীর মতো ‘মানবিক সহায়তা’ গ্রহণে আপত্তি জানায়নি। ইতিমধ্যেই ভারতের পক্ষ থেকে প্রায় ৪৭.৫ টন ত্রাণ সরবরাহ পাঠানো হয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ১০ লক্ষ ডলার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
হাজার হাজার মানুষের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেন উদ্ধারকাজে বিদেশি দল এড়াচ্ছে নেপাল? আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের মতে, মূল বিপর্যয়স্থল রসুয়া জেলাটি চিন অধিকৃত তিব্বতের একেবারে সীমান্ত ঘেঁষা। ফলে সেখানে কোনও নিরপেক্ষ বা বিদেশি বাহিনী ঢুকলে বেজিংয়ের সামরিক গোপনীয়তা ও তিব্বতের কৌশলগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, বেজিংয়ের প্রবল কূটনৈতিক চাপের মুখেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বালেন্দ্র সরকার। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত দীনেশ ভট্টরাইয়ের মতেও, রসুয়া জেলা সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় সেখানে বিদেশি নজরদারি এড়াতে চায় বেজিং। যদিও নেপাল বিদেশ মন্ত্রক এই চিনা চাপের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
এদিকে বুধ ও বৃহস্পতিবারের দুর্যোগের রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার তিব্বতে নতুন করে তৈরি হওয়া একটি হিমবাহের হ্রদের বাঁধ ভেঙে জল হু হু করে নেপালে ঢোকার খবর মিলেছে। ফলে রসুয়া ও ধাদিং জেলায় ফের চরম সতর্কতা ও রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। নতুন করে হড়পা বানের আশঙ্কায় সমস্ত উদ্ধারকাজ আপাতত স্থগিত রাখায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।



