কলকাতা

নেপালের মহাপ্রলয়ে নিখোঁজ কলকাতার ৬ পর্যটক, চরম উৎকণ্ঠায় চোখের জল ফেলছে পরিবার

২১ আগস্ট রওনা হতেই নেমে এল ধ্বংসযজ্ঞ! সার্ভে পার্কের দম্পতি-সহ কলকাতার বহু পর্যটকের ফোন সুইচ অফ

Truth of Bengal: কেউ অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী, কেউ আবার সাধারণ গৃহবধূ, ভোলানাথের টানে ও কৈলাস-মানস সরোবরের অমোঘ আকর্ষণে ছুটে গিয়েছিলেন নেপালে। কিন্তু নেপাল-চিন সীমান্তের রসুয়া জেলায় আকস্মিক হড়পা বান ও প্রলয়ংকারী ধ্বংসলীলা যে সব তছনছ করে দেবে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি কেউ। পাহাড়ি নদীর তীব্র জলোচ্ছ্বাসে শয়ে শয়ে প্রাণহানির খবরের পাশাপাশি বাড়ছে নিখোঁজের দীর্ঘ তালিকা। আর সেই তালিকায় নাম জুড়েছে কলকাতার অন্তত ৬ জন বাসিন্দার। বিপর্যয়ের খবর টিভিতে দেখা ইস্তক চরম দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কে চোখের জল ফেলছেন পর্ণশ্রী থেকে পাটুলির স্বজনরা।

নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বেহালা পর্ণশ্রীর ২২জি মে রোডের বাসিন্দা তথা অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী রঞ্জিত হাওলাদার। প্রতি বছরের মতো এবারও মহাদেবের ভক্ত রঞ্জিতবাবু ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে নেপাল রওনা দিয়েছিলেন। বিপর্যয়ের আগের দিন রাতে মেয়ে সুনন্দার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর থেকেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুনন্দার আকুল আর্জি, “সরকার দ্রুত বাবাকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করুক।”

একইভাবে নিখোঁজ সার্ভে পার্ক থানা এলাকার ইস্টার্ন পার্কের প্রবীণ দম্পতি মানস কুমার ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী দীপালি সরকার। অবসরপ্রাপ্ত মানসবাবু স্ত্রীর সঙ্গে ২১ আগস্ট নেপাল যান। তাঁদের একমাত্র মেয়ে অদ্রিজা দিল্লি এইমসের ছাত্রী। বাবা-মায়ের খোঁজ না পেয়ে দিল্লি থেকেই প্রশাসন ও এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তিনি। অন্যদিকে, নেতাজি নগর থানা এলাকার বাসিন্দা তথা গৃহশিক্ষক রীনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (৫৪) স্বপ্ন ছিল মানস সরোবর দর্শনের। দীর্ঘ চেষ্টার পর ২১ আগস্ট তিনি রওনা দেন। রবিবার ধস নামার কথা জানালেও বুধবারের পর থেকে তাঁর ফোন আর বাজছে না।

পাটুলির বাসিন্দা ৬২ বছরের অমরনাথ পালের গল্পটাও একই। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও, ভয়াবহ দুর্যোগের পর থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ। স্বামী নিখোঁজ হওয়ায় শোকে পাথর হয়ে পড়েছেন স্ত্রী প্রথমা পাল। একই দুর্দশা কসবার হালতুর বাসিন্দা সুস্মিতা ভট্টাচার্যের পরিবারের। শেষ মুহূর্তে একটি মাত্র খালি আসন পেয়ে লটারি পাওয়ার মতো আনন্দ হয়েছিল তাঁর। কিন্তু পশুপতিনাথ দর্শন করে মানস সরোবরের দিকে এগোনোর পরেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। ট্রাভেল এজেন্সিগুলিও এখন কোনো সুসংবাদ দিতে পারছে না। আতঙ্কের মেঘ জমেছে তিলোত্তমার ঘরে ঘরে, রাজ্য সরকারের দিকেই তাকিয়ে পরিবারগুলি।

Related Articles