কলকাতা

“রোজ রাত ১০টায় মদ খাইয়ে দুটো পাগল পাঠিয়ে দিচ্ছে!”, বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

কালীঘাটের বাড়ির সামনে মাতালদের দৌরাত্ম্য! একুশে জুলাইয়ের পর ফের মারাত্মক অভিযোগ মমতার!

Truth of Bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চরম ভরাডুবির পর থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্রমাগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও শারীরিক-মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে মানসিক যন্ত্রণা দিতে ও বিরক্ত করতে প্রতিদিন নিয়ম করে রাত ১০টায় কালীঘাটের বাড়ির সামনে দুজন মদ্যপ ব্যক্তিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।

এর আগে একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের আগেও বিজেপির বিরুদ্ধে বহিরাগতদের দিয়ে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর বাড়ির সামনে গভীর রাত পর্যন্ত সাউন্ড বক্স বাজিয়ে উচ্চশব্দে গান চালিয়ে তাণ্ডব চালানো হচ্ছিল। শুক্রবারের মঞ্চ থেকেও সেই একই সুর টেনে মমতা বলেন, “প্রতিদিন রাত ১০টা বাজলেই দুটো লোককে মদ খাইয়ে উন্মাদের মতো পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কুরুচিকর ভাষায় গালাগাল দিচ্ছে। বিজেপি এখন মাতাল ও দুষ্কৃতীদের কাজে লাগিয়ে এই নিচ মানসিকতার রাজনীতি করছে।” তবে মমতার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপির তরফ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এই জনসভা থেকে বিজেপিকে এক হাত নিয়ে মমতা আরও বলেন, “বিজেপি হল একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক, হাইলোডেড ও হাইভোল্টেজ ভাইরাস! এরা যে সংস্থানে বা রাজ্যে ঢুকবে, সেখানেই চরম সর্বনাশ ডেকে আনবে। আমরা বিজেপিকে মানি না, জানি না, চিনি না এবং শুনিনি।”

যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা টেনে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকেও তীব্র আক্রমণ শানান মমতা। বর্তমানে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমার সময়ে রাজ্যের পুলিশ অন্তত মানবিক ছিল। এখনকার এই নির্দয় পুলিশকে আমি সত্যি চিনি না। প্রশাসনিক পদাধিকারীদের মনে রাখা উচিত, এই ক্ষমতার ছাতা কিন্তু সারা জীবন মাথার ওপর থাকবে না। আমাকে নাকি রাস্তায় বেরোতে দেবে না, কত বড় বুকের পাটা এদের?” একই সঙ্গে উপস্থিত ছাত্র ও যুব সমাজকে বিজেপির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করার পরামর্শ দিয়ে মমতা বলেন, “রাজনীতি দিয়ে কখনওই তরুণ আন্দোলনকে দমন করা যায় না। ছাত্র আন্দোলন হলে শক্ত হয়ে দাঁড়াবেন, বিকিয়ে গিয়ে বিজেপি হবেন না।”

Related Articles