রাখিবন্ধনে যাদবপুরের ‘দেশবিরোধী’দের আক্রমণ, ‘আবর্জনা’ সাফ করার নিদান মুখ্যমন্ত্রীর
"কে এই কিষানজি? কী শেখাচ্ছেন নতুন প্রজন্মকে?", যাদবপুরের দেওয়ালে লাল সোলামের তীব্র বিরোধিতা শুভেন্দুর!
Truth of Bengal: রাখিবন্ধনের পুণ্য তিথিতে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশবিরোধী শক্তি ও তথাকথিত ‘আজাদি’ পন্থীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার অসামান্য অবদান ও বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ শত্রুদের বিরুদ্ধে এবার সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে মাওবাদী নেতা কিষানজিকে ‘রেড স্যালুট’ জানানোর ঘটনা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
শুক্রবার ভবানীপুরের রাখিবন্ধন উৎসবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাইরের শত্রুদের প্রতিহত করার জন্য আমাদের শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে। সীমান্তে শত্রুর ঘরে ঢুকে নাম-নিশানা মুছে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে আমাদের বায়ুসেনা। কিন্তু আসল উদ্বেগ হল দেশের ভিতরে লুকিয়ে থাকা শত্রুদের নিয়ে, যারা প্রতিনিয়ত ভারতকে ভিতর থেকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
কলকাতার রাস্তায় বিভিন্ন সময় ওঠা ‘আজাদি’ স্লোগান এবং কাশ্মীর প্রসঙ্গে দেশবিরোধী অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অত্যন্ত কষ্ট হয় যখন এই শহরের রাজপথে ‘আজাদি’ স্লোগান ওঠে কিংবা লেখা থাকে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’। কিসের আজাদি চাইছেন আপনারা? ভারত তো ১৯৪৭ সালেই পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করেছে।”
এরপরই রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের দেওয়ালের গ্রাফিটি টেনে কড়া আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে লেখা থাকে ‘রেড স্যালুট কিষানজি’। কে এই কিষানজি? যিনি চিরকাল ভারতীয় সংবিধানকে অমান্য করেছেন, ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন এবং দেশভাগ সমর্থন করেছেন! আগামী প্রজন্মকে আপনারা কী শিক্ষা দিচ্ছেন?”
একই সঙ্গে ‘জনগণমন’ কিংবা পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম্’-এর বিরোধিতা করা মনোভাবাপন্ন মানুষদের তীব্র ভর্ৎসনা করে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “যারা দেশের জাতীয় সঙ্গীত ও বন্দে মাতরমকে অপমান করে, এই দেশপ্রেমের রাখিবন্ধন উৎসবে শপথ নিতে হবে, ঘরের আবর্জনার মতোই এদের সমাজ থেকে ঝেঁটিয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই চরম হুঙ্কারে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়েছে।





