রাজ্যের খবর

রাজনীতির ব্যস্ততা ঠেলে পারিবারিক ঐতিহ্য! বোনের হাতে রাখি পরলেন মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য

রাখি পরানোর পর ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, রাখি পূর্ণিমার দিনটি মূলত বোনের হাতে রাখি পরার দিন

তরুণ মুখোপাধ্যায়, সৌগত রায়, হুগলি: রাজনৈতিক ব্যস্ততা, কর্মসূচি—সবকিছুর মাঝেও রাখির দিনে পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখলেন শ্রীরামপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য। শ্রীরামপুরে নিজের বাড়িতেই বোন মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে রাখি পরলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই দাদাকে রাখি পরিয়ে আসছেন মহুয়া। প্রতি বছর কোন্নগর থেকে দাদার বাড়িতে এসে রাখি পরান তিনি। এ বারও সেই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি। রাখি পরানোর পর ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, রাখি পূর্ণিমার দিনটি মূলত বোনের হাতে রাখি পরার দিন। প্রতি বছরই তাঁর বোন কোন্নগর থেকে আসেন। এ বার সংবাদমাধ্যমের বহু প্রতিনিধি উপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা বলেও জানান তিনি।

রাখির প্রসঙ্গেই সামাজিক পরিবর্তনের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। ভাস্কর বলেন, মানুষ যে পরিবর্তন চেয়েছিল, তা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়—সামাজিক ও মানসিক পরিবর্তনও। সেই পরিবর্তন এখন বিভিন্ন জায়গায় পরিলক্ষিত হচ্ছে। হিন্দু সনাতন সংস্কৃতির রীতি-নীতি এবং ঝুলন পূর্ণিমার ঐতিহ্য বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে পালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানববন্ধনের বার্তা সমাজকে আরও সুসংগঠিত ও সুরক্ষিত রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাখির দিনেও অবশ্য ব্যস্ততা কমেনি মন্ত্রীর। কোন্নগরে কর্মসূচি সেরে কলকাতায় যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। তার মধ্যেই নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত বোন এবং পশ্চিমবঙ্গবাসীকে রাখি পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানান তিনি।

উপহার প্রসঙ্গে ভাস্করের বক্তব্য, রাখি মূলত ভালোবাসার প্রতীক। মনের থেকে দেওয়ার মতো কোনও উপহারের সঙ্গে এর তুলনা হয় না, আশীর্বাদই আসল। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনীতির সঙ্গে ভাই-বোনের পারিবারিক সম্পর্কের কোনও যোগ নেই। দু’টি বিষয় নিজেদের জায়গায় সমান্তরালভাবেই চলে। অন্যদিকে, দাদা ভাস্করের হাতে রাখি পরিয়ে আবেগাপ্লুত মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ছোটবেলা থেকেই দাদাকে রাখি পরিয়ে আসছেন তিনি। দাদা অত্যন্ত ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও সময় বের করে নেওয়ায় এবং নিয়ম মেনে রাখি পরাতে পারায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

মহুয়া জানান, তাঁদের আরও এক দিদি ব্যান্ডেলে থাকেন। অসুস্থতার কারণে এ বার তিনি আসতে পারেননি। দাদা বাইরে থেকে কঠোর মনে হলেও ভিতরে অত্যন্ত নরম মনের মানুষ বলেও জানান তিনি। ব্যস্ততার মধ্যেও ভাই-বোনের এই মেলবন্ধন ধরে রাখতে পারাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় উপহার। দাদার রাজনৈতিক ও সামাজিক লড়াইয়েও পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মহুয়া। তাঁর প্রার্থনা, দাদা সুস্থ থাকুন এবং মানুষের জন্য কাজ করে আরও অনেক দূর এগিয়ে যান।

Related Articles