পুজোর প্রসাদে ভেজাল রুখতে কড়াকড়ি! লাইসেন্স ছাড়া ভোগ তৈরি করলেই আইনি পদক্ষেপ
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বড় আকারে প্রসাদ তৈরি ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকেও ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ-র লাইসেন্স নিতে হবে
Truth of Bengal: মহারাষ্ট্রে খাদ্যসুরক্ষা নিয়ে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ করে ইতিমধ্যেই আলোচনায় তুকারাম মুন্ডে। কখনও ভেজাল পনিরের বিরুদ্ধে অভিযান, কখনও আবার নিয়ম না মানায় ডমিনোজ বা পিজ়া হাটের মতো জনপ্রিয় ফুড চেনের আউটলেটের লাইসেন্স বাতিল—জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে কোনও রকম আপস করতে নারাজ তিনি। এবার তাঁর নজরে ধর্মীয় উৎসবে বিতরণ করা মহাপ্রসাদ। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বড় আকারে প্রসাদ তৈরি ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকেও ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ-র লাইসেন্স নিতে হবে। সামনেই গণেশ চতুর্থী। মহারাষ্ট্রজুড়ে এই উৎসবে বিপুল সংখ্যক মানুষ মন্দির ও বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে প্রসাদ গ্রহণ করেন। সেই কারণেই প্রসাদের গুণমান এবং স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে বিশেষ সতর্ক প্রশাসন। সম্প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা ভাণ্ডার বড় পরিসরে প্রসাদ তৈরি ও বিতরণ করে, তাদের এফডিএ-র নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নিতে হবে।
এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসও। উৎসবের আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভক্তদের হাতে যে প্রসাদ তুলে দেওয়া হবে, তা অবশ্যই বিশুদ্ধ এবং ভেজালমুক্ত হতে হবে। এফডিএ-র স্বাস্থ্যবিধি মেনেই প্রসাদ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে প্রসাদ প্রস্তুতকারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু খাদ্যসুরক্ষাই নয়, গণেশ উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলেছে মহারাষ্ট্র সরকার। সম্প্রতি গণেশ চতুর্থীর শোভাযাত্রার প্রস্তুতির সময় মুম্বইয়ে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। মণ্ডপে নিয়ে যাওয়ার পথে বিশাল গণেশ মূর্তি বহনের কাঠামো গাড়ি থেকে উলটে পড়ে। তার নীচে চাপা পড়ে দু’জনের মৃত্যু হয় এবং কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুই শিশুও ছিল।
এই ঘটনার পর পুজো উদ্যোক্তা ও প্রশাসনের মধ্যে আরও সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন ফড়নবিস। কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং দুর্ঘটনা এড়াতে আগাম সতর্কতা নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। গণেশ উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রসাদ বিতরণ। তাই সেই প্রসাদ যাতে কোনওভাবেই ভেজাল বা অস্বাস্থ্যকর না হয়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে মহারাষ্ট্র সরকার। সেই লক্ষ্যেই তুকারাম মুন্ডের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে প্রশাসন। জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের জন্য আগেও একাধিকবার শিরোনামে এসেছেন তুকারাম। নিয়মভঙ্গের অভিযোগে একের পর এক রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁর বার্তা স্পষ্ট—নাম বা প্রভাব যাই হোক, খাদ্যের মান এবং মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনও আপস চলবে না।






