কলকাতা

সরাসরি পুরমন্ত্রীকে জানান আপনার এলাকার অভাব-অভিযোগ! নজিরবিহীন জনসংযোগ কর্মসূচি

একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই অভিনব ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

Truth of Bengal: রাজ্যের পৌর এলাকার নাগরিকদের পরিষেবা সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার দ্রুত ও সরাসরি সমাধানের লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন উদ্যোগ নিতে চলেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। এই নতুন কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুখোমুখি’। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা খোদ পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে জানাতে পারবেন। আগামী ৪ জুলাই কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) থেকে এই বিশেষ প্রোগ্রামের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে। আসানসোলে ইসিএলের (ECL) একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই অভিনব ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। জনসাধারণের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কমিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা এই কর্মসূচিতে প্রতি শনিবার বেলা ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কলকাতা পুরসভা এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ফোন লাইন খোলা থাকবে। তবে শুধু কলকাতাই নয়, পর্যায়ক্রমে রাজ্যের বাকি সমস্ত কর্পোরেশন এলাকা যেমন— আসানসোল, শিলিগুড়ি, হাওড়া, বিধাননগর এবং চন্দননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নাগরিকদের জন্যও এই সুবিধা চালু করা হবে। বাকি কর্পোরেশনগুলির জন্য সপ্তাহে আলাদা আলাদা দিন ও সময় নির্ধারণ করা হবে, যা খুব শীঘ্রই সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন।

এই কর্মসূচির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে পুরমন্ত্রী বলেন যে, এক থেকে দেড় ঘণ্টার এই লাইভ সেশনে তিনি নিজে কলকাতার দপ্তরে উপস্থিত থাকবেন। তাঁর সঙ্গে কনফারেন্স রুমে সংশ্লিষ্ট কর্পোরেশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং গোটা ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে শুধুমাত্র শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের আধিকারিকরা অনলাইনে (ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে) যুক্ত হবেন, বাকি সমস্ত কর্পোরেশনের দিন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সশরীরে কলকাতার দপ্তরে হাজির থাকতে হবে।

এই লাইভ সেশনে সাধারণ মানুষ ফোন করে পানীয় জল, রাস্তাঘাট বা অন্য যেকোনো পুর পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার কথা সরাসরি মন্ত্রীকে জানাতে পারবেন। ফোন আসা মাত্রই অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে লিখে নেওয়া হবে এবং তা সমাধানের জন্য তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে অভিযোগকারীর মোবাইলে সঙ্গে সঙ্গে একটি মেসেজ পাঠিয়ে জানানো হবে যে, তাঁর সমস্যাটি নথিভুক্ত হয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত নাগরিকের সেই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হচ্ছে এবং তিনি চূড়ান্ত সন্তোষজনক বার্তা পাচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই কাজ জারি থাকবে।

Related Articles