বিশ্বমঞ্চে এবার চন্দননগরের ‘জলভরা’! একযোগে জিআই তকমা পেল হুগলীর ৩ ঐতিহ্য
আগামী দিনে এই মিষ্টি কে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা ভাবনার করার দাবী জানান হচ্ছে
রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: হুগলি জেলায় নয়া পালক যুক্ত হল।চন্দননগরের জলভরা সন্দেশ থেকে জনাইয়ের মনোহরা মিষ্টি ও বলাগড় এর নৌকা জি আই স্বীকৃতি পেল।মিষ্টি প্ৰিয় বাঙালির কাছে জলভরা সন্দেশের বিকল্প নেই।দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই স্বীকৃতিতে খুশি মিষ্টি ব্যবসায়ী থেকে নৌ শিল্পীরা। আগামী দিনে এই মিষ্টি কে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা ভাবনার করার দাবী জানান হচ্ছে।সেই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া নৌ শিল্পের পুনঃরুজীবনের সরকারি পদক্ষেপের দাবী করছে শিল্পীরা।
চন্দননগরের মিষ্ঠান্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী শৈবাল মোদক বলেন চন্দননগরের জলভরা সর্বভারতীয় স্তরে একটা সুনাম রয়েছে। চন্দননগরের জল ভরা আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসার জন্য জি আই পাওয়া প্রয়োজন ছিল। জলভরা সন্দেশ জি আই পাওয়াতে আমরা খুবই আনন্দিত। ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে আমরা জিআই এর জন্য এপ্লাই করি। দীর্ঘ চার বছর বাদে এই স্বীকৃতি পেয়েছি। বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যম দিয়ে এই মিষ্টি পাস করেছে। সূর্য মোদকের জলভরা এখন থেকে চন্দননগরের জলভরা হিসেবেই পরিচিতি পাবে আগামী দিনে। আমরা চাই চন্দননগরে সূর্য মোদকের একটা মূর্তি স্থাপন করার তার জন্য বিধায়কের কাছে আবেদন জানিয়েছি। আন্তর্জাতিক বাজারে জলভরা প্রসার ঘটাতে গেলে মিষ্টির মেয়াদ বাড়াতে হবে।এর জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে রিসার্চ করতে হবে।তবেই জলা ভরার বিদেশের বাজারে মর্যাদা পাবে। ব্যবসার দিক খুলবে।

বলাগরের আঞ্চলিক গবেষক পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন বলাঘরের নৌ শিল্পে জি আই পাওয়া। প্রায় চার বছরের একটা লড়াই। সারা ভারতবর্ষে সমস্ত জায়গায় নৌকা বানানো হয়। সুন্দরবন কাকদ্বীপ ও জলপাইগুড়িতে নৌকো বানানো হয় কিন্তু বলা ঘরের নৌ শিল্প অন্য রকম। সেই ইতিহাসকে ও বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে সাহায্য করেছিলেন অধ্যাপক ডক্টর পিনাকি ঘোষ ও ডক্টর শান্তনু পান্ডা। আইনগতভাবে গবেষণাপত্র করে জমা দিতে হয়। সেইমতো পাঁচটি হেয়ারিংয়ের পর বলাকরের ডিঙি নৌকার স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা বোঝাতে পেরেছিলাম নৌকার প্রথম ধাপ ছিল ডিঙি নৌকা।

এক নং শিল্পী বলেন জিআই পাওয়ায় ফলে ভারতবর্ষের মানচিত্রে একটা জায়গা পেলাম তাতে আমরা খুশি। কিন্তু আর্থিকভাবে কতটা লাভবান হলো বললাম বলতে পারব না। আমাদের নৌকা প্রধানত ব্যবহার করা হয় মৎস্যজীবী মানুষের জন্য। তারাও আর্থিকভাবে দুর্বল। সেই কারণে আমরাও নৌকার উপযুক্ত দাম পাচ্ছি না। এমনকি নৌ শিল্পীরাও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারছে না।জি আই পাওয়া স্বীকৃতি কিন্তু আমাদের সরকারি সাহায্য যদি না পাই তাহলে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন বিপন্ন হয়ে যাবে আগামী দিনে।


