ইউক্রেনের সরকারি আবাসনে মিসাইল হামলা, রাশিয়ার আক্রমণে মৃত ১ শিশু সহ ৩
শহরের একাধিক আবাসন, প্রশাসনিক ভবন ও অবকাঠামো আগুনে পুড়ে ছারখার হয়েছে।
Truth Of Bengal: ফের ইউক্রেনে আঘাত হানল রাশিয়া। রবিবার ভোররাতে একাধিক ড্রোন ও মিসাইল হামলায় কিয়েভসহ দেশের নানা শহর বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজধানী কিয়েভে অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে এক শিশু ও এক তরুণীও রয়েছেন। গুরুতর আহত অন্তত ১৮ জন। শহরের একাধিক আবাসন, প্রশাসনিক ভবন ও অবকাঠামো আগুনে পুড়ে ছারখার হয়েছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনিক প্রধান তিমুর ত্কাচেঙ্কো জানিয়েছেন, পেচেরস্কি জেলায় শহরের প্রশাসনিক ভবনের ছাদে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউক্রেন সরকারের প্রধান দফতরের ভবন থেকে ঘন ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিটশকো জানান, প্রথমে একের পর এক ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। এরপর শুরু হয় মিসাইল হামলা। ড্রোন হামলায় দু’জন নিহত হন এবং পাঁচ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে এক গর্ভবতী মহিলা রয়েছেন। অপর এক ঘটনায় দারনিতস্কি জেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।
দারনিতস্কি জেলার একটি চারতলা আবাসনের দুই তলায় আগুন লাগে, ধসে পড়ে ভবনের অংশবিশেষ। পশ্চিম কিয়েভের সভিয়াতশিনস্কি জেলায় নয়তলা একটি আবাসনের একাধিক তলা ধসে যায়। শহরের বিভিন্ন স্থানে ১৬ তলা ও অন্যান্য ভবনে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন ছড়ায়। জরুরি পরিষেবা বিভাগের প্রকাশিত ছবিতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত আবাসনের জানলা ও বারান্দা দেখা গেছে। বহু এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। শুধু কিয়েভ নয়, ইউক্রেনের অন্যান্য শহরেও হামলার জেরে বিদ্যুৎ, পরিবহণ ও অবকাঠামো ব্যাহত হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহর ক্রেমেনচুকে বিস্ফোরণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়। ক্রিভি রিহ শহরে পরিবহণ ও নগর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের ওডেসায় বহু আবাসনে আগুন লাগে।
তিমুর ত্কাচেঙ্কো টেলিগ্রামে অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষের বসতি ও নাগরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। যদিও মস্কোর তরফে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। দুই দেশই সাধারণ মানুষকে টার্গেট করার অভিযোগ অস্বীকার করছে। তবুও ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
হামলার প্রভাব শুধু কিয়েভে সীমাবদ্ধ নেই। পশ্চিম ইউক্রেনও বিপদের মুখে পড়েছে। প্রতিবেশী পোল্যান্ড জানিয়েছে, আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিজেদের বিমান এবং মিত্রবাহিনীর বিমান সক্রিয় করেছে। ইউক্রেনের ওপর রুশ হামলার নতুন এই পর্যায় যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।






