আন্তর্জাতিক

ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর, অনির্দিষ্টকালের বনধের ডাক জনতার

পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকারের বৈমাতৃসুলভ আচরণের প্রতিবাদে ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছেন বাসিন্দারা।

Truth Of Bengal: অশান্তির আগুন দানা বাঁধছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। (POK) পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগে তুমুল বিক্ষোভে দীর্ঘদিন ধরে অশান্ত অধিকৃত কাশ্মীর। পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকারের বৈমাতৃসুলভ আচরণের প্রতিবাদে ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছেন বাসিন্দারা। সোমবার পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা গিয়েছে আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির ডাকা মিছিলে। পুরো অঞ্চল জুড়ে ‘শাটার ডাউন ও চাক্কা জ্যাম’ বনধ ডাকা হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের এই বনধ ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। স্তব্ধ জনজীবন। সোমবার মধ্যরাত থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মরিয়া পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।

প্রসঙ্গত, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি গত কয়েক মাসে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সোমবার হাজার হাজার মানুষকে ব্যানার হাতে নিয়ে পথে নামতে দেখা গেল। আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি ইতিমধ্যেই ৩৮ দফা দাবি পেশ করেছে অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের সামনে। তার মধ্যে অন্যতম হল কাঠামোগত সংস্কার। পাশাপাশি পিওকে-র বিধানসভায় পাকিস্তানের বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২ আসনের সংরক্ষণ বাতিল করার দাবিও জানানো হয়েছে। পাক সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভে ফুঁসছে অধিকৃত কাশ্মীর। অভিযোগ, গোটা অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিকাঠামো ও পানীয় জলের অভাব গুরুতর।(POK)

উল্লেখ্য, ২০১৯-এর আগস্ট মাসে ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ৩৭০ ধারা রদ করার পর বিশেষ মর্যাদা হারিয়ে একটি রাজ্যে পরিণত হয়। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজ্য হিসাবে সবরকম সুযোগসুবিধা শুরু হয় জম্মু-কাশ্মীরে। অন্যদিকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের মধ্যে না পাওয়ার ক্ষোভ বাড়তে থাকে। বারবার দাবি জানানো হলেও পাকিস্তান সরকারের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। শাহবাজ শরিফের আমলে সরকারি কাজে অবহেলা, দুর্নীতি, ঘুষ মাত্রাছাড়া আকার নিয়েছে বলেও অভিযোগ। এদিকে প্রশাসনের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে কোনওরকম ধর্মঘট বরদাস্ত করা হবে না। যদিও ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনজীবীরাও ধর্মঘটের সমর্থনে বার্তা দিয়েছেন। পাবলিক অ্যাকশন কমিটিকে সমর্থন জানিয়ে আইনজীবীরা বলেন, প্রশাসনের উচিত জনগণের দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া – তাদের দমন করা নয়। ধর্মঘট মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। এই ধর্মঘটে সব শ্রেণির মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে অধিকৃত কাশ্মীরে নতুন করে বিক্ষোভের আগুন চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তানের।(POK)

অন্যদিকে, চলতি সেপ্টেম্বরেই মরক্কো সফরে গিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে মুখ খুলেছিলেন রাজনাথ সিং। জানিয়েছিলেন, ‘আমাদের পাক অধিকৃত কাশ্মীরে কোনও হামলা চালানোর প্রয়োজন নেই। ওটা আমাদেরই। পিওকে একদিন নিজে থেকেই বলবে আমি ভারতের অংশ।’ ফের একবার সেই ধ্বনিই যেন শোনা যাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে, মত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

Related Articles