Truth of Bengal: কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে লাখ লাখ ভক্তের ভিড়ে জমজমাট তারাপীঠ। বিপুল সমাগমের কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় জোরদার করা হয়েছিল নিরাপত্তা। মোতায়েন ছিল প্রায় চার হাজার পুলিশকর্মী, বসানো হয়েছিল তিনশোরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। ছিল ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তি এবং বিশেষ কন্ট্রোল ওয়ার রুমও। তবুও কৌশিকী অমাবস্যার দিন ভিড়ের সুযোগ নিয়ে চোর-ছিনতাইবাজদের দাপটের অভিযোগ উঠল। পুলিশ সূত্রে খবর, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তারাপীঠ থানায় একশোর বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। মোবাইল হারানো বা চুরি থেকে শুরু করে সোনার গয়না, মানিব্যাগ ছিনতাই এবং অসভ্য আচরণের অভিযোগও রয়েছে সেই তালিকায়।
পুলিশের এক আধিকারিকের দাবি, থানায় জমা পড়া অভিযোগের মধ্যে প্রায় ১০টি সোনা-গয়না ও মানিব্যাগ চুরি বা ছিনতাই সংক্রান্ত। তবে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে মোবাইল হারানো বা চুরি নিয়ে। বিপুল ভিড়ের মধ্যে একের পর এক এমন অভিযোগ আসতে থাকায় দিনভর তৎপর ছিল পুলিশ। শুধু অভিযোগ নেওয়াই নয়, ভিড়ের মধ্যে সন্দেহজনক গতিবিধির উপরও নজর রাখছিল পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তারাপীঠের বিভিন্ন এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৬২ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশের দাবি, কৌশিকী অমাবস্যার বিপুল ভিড়কে কাজে লাগিয়ে পকেটমারি বা চুরির ঘটনা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়েছিল। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি চুরি বা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের প্রক্রিয়াও চলছে। অর্থাৎ, কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া তারাপীঠেও কৌশিকী অমাবস্যার ভিড়ে শতাধিক অভিযোগ—এখন পুলিশের নজর সন্দেহভাজনদের পাশাপাশি চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারের দিকেও।