আন্তর্জাতিক

নেপালের মহাপ্রলয়ের ৪ দিন আগেই ঘেমে উঠেছিল দেবীর মূর্তি? সামনে এল অলৌকিক দাবি!

রাজপরিবারের হত্যা থেকে প্রলয়ঙ্করী বন্যা! নেপালে মহা-বিপর্যয়ের আগে কীভাবে এল আগাম সতর্কবার্তা?

Truth of Bengal: প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও হড়পা বানের তোড়ে নেপাল এখন এক ধ্বংসস্তূপ। লাফিয়ে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। সেই ভয়াল বিপর্যয়ে ৯০০-র বেশি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ও অলৌকিক দাবি। নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বুধবার প্রকৃতির এই নির্মম তাণ্ডব শুরু হওয়ার ঠিক চার দিন আগে কাঠমান্ডু উপত্যকার এক অতি প্রাচীন মন্দিরে দেবী প্রতিমার শরীর থেকে ‘ঘাম’ ঝরতে দেখা গিয়েছিল! স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, দেবীর সেই ঘাম ঝরাই ছিল আসন্ন মহাপ্রলয়ের আগাম ঐশ্বরিক সংকেত।

ঘটনাটি কাভরেপালানচোক জেলার পঞ্চখাল এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক পালানচক ভগবতী মন্দিরের। শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দিরের প্রতিমা ঘিরে এক গভীর বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। লোকগাথা অনুযায়ী, দেশে কোনও বড় ধরনের প্রাকৃতির দুর্যোগ, মহামারী বা অমঙ্গল নেমে আসার আগে এখানকার অধিষ্ঠিত দেবী ভগবতী ‘ঘামতে’ শুরু করেন। ভক্তদের মতে, এটি প্রকৃতপক্ষে মানুষের বিপদে দেবীর কান্না বা সতর্কবার্তা। নেপালের রাষ্ট্রীয় সমাচার সমিতি (RSS)-এর রিপোর্ট বলছে, ২৬ আগস্ট নেপালে জলপ্রলয় নামার আগে, গত ২২ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যায় আরতির সময় পুরোহিত প্রথম দেবীর কপাল ও মুখে বিন্দু বিন্দু জল জমে থাকতে দেখেন। হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে বিপদের আশঙ্কায় সেদিনই মন্দিরে বিশেষ ক্ষমা প্রার্থনা ও শান্তির মহাযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল।

অলৌকিক এই দাবি অবশ্য প্রথম নয়। ঐতিহাসিক নথির বরাতে স্থানীয়রা জানান, ১৯৭৪ ও ১৯৮৭ সালের ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের আগেও এই প্রতিমার শরীরে একই পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। এমনকি ২০০১ সালে নেপালের রাজপ্রাসাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগের দিনও দেবী প্রতিমা ঘেমে উঠেছিল বলে দাবি করা হয়। অতীতে দেবীর শরীরে এমন লক্ষণ দেখা দিলে রাজপরিবার থেকে বিশেষ পুজোর নির্দেশ আসত।

যদিও এই অলৌকিক ঘটনার পেছনে যুক্তিপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে মন্দিরের ভেতরে থাকা শীতল কষ্টিপাথরের মূর্তির গায়ে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জমা হয়, যা দেখলে মনে হয় মূর্তিটি ঘেমে উঠেছে। তবে বিজ্ঞানের জলীয় বাষ্পের তত্ত্ব যাই বলুক না কেন, ৯০০-র বেশি মানুষের প্রাণহানি ও ৪,২০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার এই চরম বিয়োগান্তক মুহূর্তে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও লোকগাথা বিজ্ঞানকে ছাপিয়ে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে।

Related Articles