হাজার মৃত্যুর মাঝে নতুন করে প্রলয়ের বার্তা! নেপালের একাধিক জেলায় ফের হড়পা বানের কড়া সতর্কতা
একের পর এক ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বেরোচ্ছে লাশ, তারই মাঝে আকস্মিক বন্যার চরম হুঁশিয়ারি নেপালে!
Truth of Bengal: প্রকৃতির তাণ্ডবে ইটে-কাঠে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছে হিমালয়ের কোলের সৌন্দর্য। পাহাড়ি প্রলয়ে ইতিমধ্যেই নেপালে হাজারের কাছাকাছি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষ। চারদিকে শুধু কান্না আর হাহাকার। সেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যখন একে একে নিথর দেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন সেনাকর্মীরা, ঠিক তখনই নেমে এল আরও এক ভয়াবহ খবর। বিপর্যয় কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানের (Flash Flood) চরম হুঁশিয়ারি জারি করল নেপাল প্রশাসন।
মঙ্গলবার সকালে নেপাল সরকারের আবহাওয়া ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিমের বিস্তীর্ণ জেলায় ফের নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নুয়াকোট ও রাসুয়া জেলায় মারাত্মক বেগে হড়পা বান ধেয়ে আসতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তাছাড়াও তাপলেজুং, শঙ্খুয়াসভা, সোলুখুম্বু, খোটাং, ওখালধুঙ্গা, এবং রামেচাপের মতো জেলাগুলিতে পাহাড়ি নদীর জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মাঝারি থেকে উচ্চ ঝুঁকির আকস্মিক বন্যার সসংকেত দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম নেপালের গোর্খা, লামজুং, ডলপা, রুকুম পূর্ব ও রুকুম পশ্চিমের মতো পাহাড়ি এলাকাগুলিতেও সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, টানা কয়েকদিনের দুর্যোগে নেপালে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬২-তে। তবে উদ্ধার কাজ যত এগোচ্ছে, একের পর এক বিভীষিকা ফুটে উঠছে। সম্প্রতি নুয়ানকোট এলাকার একটি ধসে পড়া বাড়ি থেকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ২৩ জনের দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ২৩ জনই সম্ভবত একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। এমন শত শত ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও পচা-গলা দেহ উদ্ধার হচ্ছে।
দুর্ভাগ্যবশত, এখনও সাড়ে চার হাজারেরও বেশি বাসিন্দা নিখোঁজ থাকায় বাস্তব মৃত্যুর সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার ওপর নতুন করে একাধিক জেলায় নদীর জল বৃদ্ধি ও হড়পা বানের লাল সতর্কতা জারি হওয়ায় থমকে যেতে বসেছে উদ্ধার কাজ। আতঙ্ক ও আশঙ্কার প্রহর গুণছেন নেপালের সাধারণ নাগরিকরা।





