উদয়পুর-তালসারির বনাঞ্চলে ওরাংওটাং উদ্ধার! তদন্তে নেমে দিঘার হোটেল থেকে আটক ৩
তদন্তের সূত্র ধরে দিঘার একটি হোটেল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে
Truth of Bengal: ওড়িশার উদয়পুর-তালসারির বনাঞ্চলে পাঁচটি ওরাংওটান শাবক কীভাবে পৌঁছল, তা ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে ওড়িশা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। তদন্তের সূত্র ধরে দিঘার একটি হোটেল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। যদিও এই তিনজনের সঙ্গে ওরাংওটান উদ্ধারের ঘটনার ঠিক কী যোগ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করেননি তদন্তকারীরা। তবে দ্রুত রহস্যের জট খুলবে বলেই আশাবাদী এসটিএফ। গত ৮ সেপ্টেম্বর উদয়পুর-তালসারির বনাঞ্চল থেকে পাঁচটি ওরাংওটান শাবক উদ্ধার করেন ওড়িশা বন দফতরের কর্মীরা। জঙ্গলের মধ্যে তাদের খেলতে দেখে প্রথমে বিষয়টি নজরে আসে। উদ্ধার হওয়া পাঁচটি শাবকের মধ্যে তিনটি পুরুষ এবং দু’টি মাদী। তাদের বয়স আনুমানিক ছ’মাস থেকে এক বছরের মধ্যে।
কোথা থেকে এবং কীভাবে ওরাংওটানগুলি ওই এলাকায় পৌঁছল, তার সূত্র খুঁজতে চন্দনেশ্বর ও উদয়পুর থেকে দিঘাগামী প্রধান সড়কের অন্তত ৪৬টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে একটি সন্দেহজনক এসইউভি। গাড়িটির গতিবিধি এবং এর সঙ্গে পাচারচক্রের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া ওরাংওটানগুলিকে ভুবনেশ্বরের নন্দনকানন চিড়িয়াখানায় রাখা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা তাদের শারীরিক ও আচরণগত অবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে। খাবার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে সেদ্ধ আপেল। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে শোনানো হচ্ছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পরিবেশ বজায় রাখতে তাদের বিশেষ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত ঘরেও রাখা হয়েছে।
ওরাংওটান মূলত তিনটি প্রজাতির— বোর্নিয়ান, সুমাত্রান এবং টাপানুলি। তিনটি প্রজাতিই আন্তর্জাতিক ভাবে অত্যন্ত বিপন্ন বলে চিহ্নিত। অত্যন্ত বুদ্ধিমান এই প্রাণীগুলিকে সাধারণত ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও এবং সুমাত্রার ঘন রেনফরেস্টের উঁচু গাছে দেখা যায়। ভারত তো বটেই, আশপাশের প্রতিবেশী দেশগুলিতেও প্রাকৃতিক ভাবে ওরাংওটানের অস্তিত্ব নেই। আর সেই কারণেই ওড়িশার উপকূলবর্তী বনাঞ্চলে একসঙ্গে পাঁচটি ওরাংওটান শাবকের উপস্থিতি তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে। পোষ্য হিসেবে বিপুল চাহিদার কারণে আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের নিশানায় থাকে এই প্রাণী। ফলে উদ্ধার হওয়া শাবকগুলি কোনও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের মাধ্যমে ভারতে আনা হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা তাদের এ দেশে এনেছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ওড়িশা এসটিএফ।


