বন্যার ১৩ দিন পর মৃতদের স্মরণে নেপালে রাষ্ট্রীয় শোক, চলছে নিখোঁজদের সন্ধান
তবে শোকের আচার শেষ হলেও নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান থামেনি।
Truth of Bengal: ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় মৃতদের স্মরণে সোমবার নেপালে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছে। সরকারি দফতরগুলিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একইসঙ্গে বহু পরিবার প্রিয়জনের মৃত্যুর পর প্রচলিত ১৩ দিনের শোকের আচার শেষ করেছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বতে এই বন্যায় ১ হাজার ৩০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনও প্রায় ৫ হাজার মানুষের কোনও সন্ধান নেই। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশিরাও রয়েছেন।
হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ নেপালে মৃত্যুর পর ১৩ দিন ধরে শোক পালনের রীতি রয়েছে। এই সময় পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা বাড়িতে থাকেন এবং আত্মীয়রা তাঁদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। ১৩তম দিনে মৃতের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। বন্যায় নিখোঁজ বহু মানুষের পরিবার দেহ না পেলেও প্রতীকী শেষকৃত্য করেছে। প্রিয়জনের দেহ ছাড়াই এই আচার পালন তাঁদের কিছুটা মানসিক স্বস্তি দিয়েছে।
তবে শোকের আচার শেষ হলেও নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান থামেনি। বরং উদ্ধারকাজের গতি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। কাঠমান্ডুতে প্রধানমন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দফতরের কাছে জড়ো হয়ে তাঁরা দ্রুত তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানোর দাবি জানান।
বন্যায় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোতেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে বহু কর্মী ভেসে গিয়েছেন। অনেকে আবার ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েছেন বা বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৯০০ কর্মী নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকে থাকতে পারেন।
ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৫৫ বছরের এক পরামর্শদাতা ভূতত্ত্ববিদের এখনও কোনও খোঁজ নেই। তাঁর স্ত্রী সুমনা শ্রেষ্ঠা স্বামীর ছবি হাতে নিয়ে কাঠমান্ডুতে প্রতিবাদে যোগ দেন। বন্যার দিন কাজ শেষে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর স্বামীর। কিন্তু প্রকল্পের আড়াই তলা দফতরটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায়। ১৩ দিন পরেও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি।
একই প্রকল্পে কর্মরত ৫২ বছরের ইঞ্জিনিয়ার নিরজ শ্রেষ্ঠার ভাই মহেশ প্রসাদ শ্রেষ্ঠাও উদ্ধারকাজ নিয়ে ক্ষোভ জানান। তাঁর অভিযোগ, বিপর্যয়ের ৬ বা ৭ দিন পর মাত্র একটি ছোট খননযন্ত্র হেলিকপ্টারে করে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। ভারত বা চিনের মতো দেশ থেকে বড় হেলিকপ্টার এনে ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম দ্রুত পাঠানো উচিত ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
নিখোঁজদের সন্ধানে ভারত, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং আমেরিকার বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। ধ্বংসস্তূপ, ক্ষতিগ্রস্ত কাঠামো এবং সুড়ঙ্গের ভিতরে তল্লাশি চলছে। শুক্রবার একটি প্রকল্প থেকে নেপালের দু’জন কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। শনিবার এক চিনের নাগরিককেও জীবিত উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা।
কাঠমান্ডুর বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় মৃতদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনাও করা হয়েছে। কিন্তু ১৩ দিনের শোক শেষ হলেও বহু পরিবারের অপেক্ষা শেষ হয়নি। কেউ দেহ না পেয়ে প্রতীকী শেষকৃত্য করেছেন, আবার কেউ এখনও স্বজনের জীবিত ফিরে আসার আশায় রয়েছেন। তাই প্রশাসনের উপর দ্রুত ও আরও জোরদার উদ্ধার অভিযান চালানোর চাপ বাড়ছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ জীবিত রয়েছেন কি না, সেই আশাতেই এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।






