প্রধানমন্ত্রী সহ একাধিক নেতার পদত্যাগ, তরুণ বিপ্লবের নেপথ্যে কে এই সুদান গুরুং?
বাংলাদেশের পর নেপালও দেখল তরুণ বিপ্লবের জোর। কিন্তু জানেন কি এই তরুণ বিপ্লবের নেপথ্যে মূল মাথা কে?
Truth Of Bengal: একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে উত্তপ্ত ছিল নেপাল। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর সরকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ২৬টি প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যান করা হয়। তীব্র সোরগোল শুরু হয় নেপালে। কাঠমান্ডুতেই অন্তত ২০ জন নিহত ও ৩০০-র বেশি আহত হওয়ার মধ্য দিয়ে তা সহিংস রূপ নেয়। এরপরই প্রধানমন্ত্রী সহ বহু মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এনেক সংবাদ মাধ্যম দাবি করছে, দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন কেপি শর্মা ওলি। বাংলাদেশের পর নেপালও দেখল তরুণ বিপ্লবের জোর। কিন্তু জানেন কী এই তরুণ বিপ্লবের নেপথ্যে মূল মাথা কে?
कौन हैं सूडान गुरुंग?
जिनकी आवाज़ पर नेपाल की सड़कों पर उतरे जेन ज़ेड के युवा, हिल गई सरकारनेपाल में सोशल मीडिया बैन और भ्रष्टाचार के खिलाफ जेन ज़ेड आंदोलन ने सरकार हिला दी है।
4 सितंबर को फेसबुक, इंस्टाग्राम, व्हाट्सएप समेत 26 प्लेटफॉर्म पर बैन लगा, जिससे 1997-2012 के बीच… pic.twitter.com/QepPNf9ZdW
— Arshit Yadav (@imArshit) September 9, 2025
হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও তরুণ নাগরিকদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীরা জোর করে সংসদ ভবনে প্রবেশ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ জলকামান, টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে, শেষ পর্যন্ত গুলিও চলে। শুধু কাঠমান্ডুই নয়, পোখরা, বুটওয়াল, ভরতপুর, ভৈরহাওয়া, ইটাহারি এবং দামাক সহ একাধিক শহরেই একই ছবি দেখা যায়। এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ৩৬ বছর বয়সী নাগরিক কর্মী সুদান গুরুং।
সুদান গুরুং যুব-ভিত্তিক এনজিও হামি নেপাল-এর সভাপতি। ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রম থেকে শুরু করে সংস্থাটি এখন নাগরিক অধিকারের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ হওয়ার আগেই গুরুং ও তাঁর সংগঠন প্রতিবাদের রুট ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা প্রচারে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করেছিলেন।
একটি বহুল শেয়ার হওয়া ইনস্টাগ্রাম পোস্টে গুরুং আহ্বান জানান, বিক্ষোভকারীরা যেন স্কুল ইউনিফর্ম পরে বই হাতে প্রতিবাদে অংশ নেয়। যাতে এটি শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং সহিংসতা এড়ানো যায়।
২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিজের সন্তান হারানোর পর গুরুংয়ের জীবন আমূল বদলে যায়। একসময় ইভেন্ট অর্গানাইজার থাকলেও তিনি পরবর্তীতে ত্রাণ ও সমাজসেবামূলক কাজে ঝুঁকে পড়েন। ভূমিকম্প-উত্তর পরিস্থিতি সামলাতে তিনি গড়ে তোলেন হামি নেপাল।
পরে তিনি বিপি কৈরালা ইনস্টিটিউট অফ হেলথ সায়েন্সেস-এ স্বচ্ছতার দাবিতে হওয়া ‘ঘোপা ক্যাম্প’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে পরিচিতি পান। পার্টি প্ল্যানার থেকে নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক হয়ে ওঠার এই যাত্রা আসলে নেপালের তরুণ প্রজন্মের বৃহত্তর নাগরিক চেতনার প্রতিফলন।
প্রথমে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা। তবে শিগগিরই দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এতে মিশে যায়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া “নেপো কিড” প্রচারণা বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। রাজনৈতিক অভিজাতদের সন্তানরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা অন্যায়ভাবে পাচ্ছেন, এই অভিযোগেই ক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে।
বর্তমানে আন্দোলনের রূপ কতটা নেপালে ছড়িয়ে পড়েছে তা স্পষ্ট। এখন প্রশ্ন এবার নেপালের মসনদ সামলাবেন কে? ভরসা করে কার হাতে শাসনভার দেবে যুব সমাজ ও জনগন।






