কলকাতারাজ্যের খবর

স্বচ্ছতার সঙ্গে পঞ্চায়েত দপ্তরে ৬,৫৩৬ কর্মী নিয়োগ করবে রাজ্য : দিলীপ ঘোষ

মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প এর ক্ষেত্রে ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে বন্ধ থাকার পর রাজ্যে 'মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের কাজ পুনরায় দ্রুত চালু হতে চলেছে।

Truth of Bengal: রাহুল চট্টোপাধ্যায়: রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর দপ্তরের বিভিন্ন কর্মসূচি বিষয় জানালেন দিলীপ ঘোষ। সল্টলেকের মৃত্তিকা ভবনে তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দপ্তরের সচিব ড.পি. উলাগানাথান ও পদস্থ আধিকারিকরা। মন্ত্রী ও সচিব ভার্চুয়াল মাধ্যমে রাজ্যের সব বিডিও ও আধিকারিকদের সাথে বৈঠকে মিলিত হন। তার পরে সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান,রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর রাজ্যে সমস্ত প্রধান কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি পুনরায় চালু করেছে। যেমন এমজিএনআর ই জি এস, পিএম এ ওয়াই- জি, পিএমজিএসওয়াই, ডি এ ওয়াই -এন আর এল এম, আরজিএসএ, এনএসএপি এবং কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের আওতাভুক্ত প্রকল্পসমূহ। কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পগুলির জন্য তাদের প্রদেয় অংশের অর্থবরাদ্দ করাও ইতিমধ্যে শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (গ্রামীণ) এর ক্ষেত্রে ভারত সরকারের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের এমপাওয়ার্ড কমিটি তাদের ২৭ মে অনুষ্ঠিত বৈঠকে, এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ২,৭৯০ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা এবং ৪৫ টি সেতু নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পর এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের অংশ মিলিয়ে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এই রাজ্যের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহৃত হবে।

মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প এর ক্ষেত্রে ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে বন্ধ থাকার পর রাজ্যে ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের কাজ পুনরায় দ্রুত চালু হতে চলেছে। প্রায় ২.৫৬ কোটি ‘জব কার্ড’ধারীর মজুরিযুক্ত কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর কর্তৃক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ভিবি-জি- রাম – এর ক্ষেত্রে সারা দেশে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন গ্রামীণ (ভিবি-জি- রাম -জি)’ চালু হবে। সমস্ত প্রস্তুতিমূলক কাজ, যেমন প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি জারি, বিভিন্ন নিয়ম প্রণয়ন, স্টিয়ারিং কমিটি গঠন এবং সমস্ত অংশীদারদের প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যেই চলছে। নতুন নির্দেশাবলী মোতাবেক, যোগ্য ‘জব কার্ড’ধারী পরিবারগুলি এক অর্থবর্ষে ১২৫ দিনের মজুরিযুক্ত কর্মসংস্থানের অধিকারী হবেন এবং আইন নির্ধারিত ৬০ টি ‘কর্মহীন’ দিনের সংস্থানও থাকবে। প্রকল্পের খরচ কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ৬০:৪০ অনুপাতে ভাগ হবে। আশা করা হচ্ছে যে, এই প্রকল্পের বার্ষিক ব্যয় ১২,৮৫০ কোটি টাকা অতিক্রম করবে।

রাজ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ (পি এম এ ওয়াই জি )’-এর অধীনে যোগ্য গ্রামীণ পরিবার চিহ্নিত করতে ‘ আবাস প্লাস ২০২৪’ সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সমীক্ষক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে যা ২০ জুলাই ২০২৬ এর মধ্যে শেষ হবে। এরপর ‘জব কার্ড’-এর তথ্য যাচাই, গ্রামসভার অনুমোদন, জন-পর্যালোচনা এবং জেলাস্তরের কমিটি কর্তৃক তালিকার চূড়ান্ত অনুমোদন হবে। অনুমোদনের পর ‘স্থায়ী অপেক্ষমান তালিকা (পি ডব্লিউ এল)’ ভুক্ত পরিবারগুলি প্রকল্পের যোগ্য উপভোক্তা হিসাবে বিবেচিত হবেন।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামীণ জীবিকা মিশন এর অন্তর্গত এই প্রকল্প (ডব্লিউবিএসআরএলএম)-এর অধীনে বর্তমান অর্থবর্ষে রাজ্য এই লক্ষ্যগুলি অর্জন করতে চায়-১ লক্ষ টি নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন,প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা, যা গতবারের তুলনায় ৫,০০০ কোটি বেশি, প্রতিটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী পিছু গড়ে প্রায় ৩.৫ লক্ষ টাকা ঋণের ব্যবস্থা করা ও
২০ লক্ষ ‘লাখপতি দিদি’ তৈরি করা র লক্ষ্যমাত্র নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) এর ক্ষেত্রে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে, ভারত সরকার রাজ্যের জন্য ২,৪৯১.৭১ কোটি টাকার একটি ‘বার্ষিক পরিকল্পনা’ অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে ৯৩৩.৩৩ কোটি টাকা ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে (কেন্দ্রীয় অংশ ৫৬০ কোটি, রাজ্য অংশ ৩৭৩.৩৩ কোটি)। এই বছরে, দপ্তর প্রায় ৭ লক্ষ ‘আই এইচ এইচ এল’নির্মাণ, ৫,০০০ টি ‘কমিউনিটি স্যানিটারি কমপ্লেক্স’ স্থাপন, ৭০ টি ‘ফেকাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ এবং ৩৬ টি ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট’ স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এছাড়াও, সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধা’গুলির মানোন্নয়ন করা হবে। এই উদ্যোগগুলির মূল লক্ষ্য হলো ‘ওডিএফ প্লাস মডেল ভিলেজ’এর শিরোপা অর্জন করা। দিশা -কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় জোরদার করতে, সমস্ত জেলায় নিয়মিত ‘জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ কমিটি (ডিআইএসএইচএ)’-র বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ এর ক্ষেত্রে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরে ১১,১৫৪ টি পদ খালি রয়েছে (গ্রাম পঞ্চায়েত: ৯,৯৩৬, পঞ্চায়েত সমিতি: ৬৬০ এবং জেলা/মহকুমা পরিষদ: ৫৫৮)। পূর্ববর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে, এগুলির মধ্যে ৬,৫৩৬ টি পদ সরাসরি নিয়োগের জন্য অনুমোদিত হয়েছে (গ্রাম পঞ্চায়েত: ৫,৫০৯, পঞ্চায়েত সমিতি: ৫৬৪ এবং জেলা/মহকুমা পরিষদ: ৪৬৩)। নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছু দিনের মধ্যেই অত্যন্ত স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শুরু হবে বলে মন্ত্রী জানান পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর কর্তৃক গৃহীত অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাসমূহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে একই স্থানে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত পি আর আই কর্মীদের বদলি করতে হবে।
সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে ‘বিশেষ অডিট’ শুরু হয়েছে যাতে আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলির চিহ্নিতকরণ ও সমাধান করা যায়।প্রশাসনিক দক্ষতাবৃদ্ধি ও পরিষেবা প্রদানের উন্নতির জন্য, কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লকের সংযুক্তিকরণ বা বিভাজনের প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে।অংশীদারিত্তমূলক পরিকল্পনা ও জনসাধারণের অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে ৫ জুন রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে গ্রামসভা অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি বর্তমানে কার্যকরী নয়, সেখানে জেলাশাসকদের নিরবচ্ছিন্ন জনপরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সমস্ত প্রধান গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পগুলির স্বচ্ছতা ও দায়িত্ব বৃদ্ধি, সামাজিক নিরীক্ষা, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থার যথাযথ পর্যালোচনা ও সশক্তিকরণের কাজ চলছে। পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রী দিলিপ ঘোষ আরও জানান, ইতিমধ্যেই তাঁর দপ্তরে বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় বেশ কিছু নির্মাতা সংস্থা আবেদন করেছে তারা যাতে রাজ্যের পঞ্চায়েত এলাকাগুলোতে আবাসন নির্মাণ করতে পারে। রাজ্য সরকার এই বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করছে বলে মন্ত্রী জানান।
পঞ্চায়েত এলাকায় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

Related Articles