দেশ

Nepal Protest: নেপালের বিক্ষোভে মর্মান্তিক মৃত্যু: হোটেলের চারতলা থেকে নামতে গিয়ে প্রাণ গেল ভারতীয় পর্যটকের

দোতলা পর্যন্ত নামতেই রাজেশদেবীর হাত ফস্কে যায় এবং তিনি নিচে পড়ে গুরুতর মাথায় আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

Truth of Bengal: নেপালের বিক্ষোভ ও অশান্তির মধ্যে মৃত্যু হল  এক ভারতীয়ের। মৃতের নাম রাজেশদেবী গোলা (৪৮)। তিনি উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর স্বামী রামবীর সিংহ গোলার সঙ্গে কাঠমান্ডুতে বেড়াতে যান তিনি। এক সপ্তাহের পরিকল্পিত সফরে তাঁরা কাঠমান্ডুর একটি হোটেলে ওঠেন। কিন্তু দেশে ফিরে আসার আগেই শুরু হয় বিক্ষোভ, ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনা। বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রপতি ভবন সহ সরকারি ভবনে হামলা চালানোর পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন হোটেলেও তাণ্ডব চালায়। রাজেশদেবী ও তাঁর স্বামী যে হোটেলে ছিলেন, সেটিও হামলার শিকার হয়। আতঙ্কে বহু পর্যটক আশ্রয় খুঁজতে থাকেন। তাঁদের হোটেল ছিল চারতলায়। সেই সময় তাঁরা পশুপতিনাথ মন্দির দর্শন করে ফিরে এসেছিলেন।পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রাণে বাঁচতে তাঁরা চাদর, কাপড় জুড়ে দড়ি বানিয়ে চারতলা থেকে নামার চেষ্টা করেন (Nepal Protest)।

আরও পড়ুনঃ Hindi Chatbot: হিন্দি জানলে মেটায় চাকরি! মাসে ৯ লাখ টাকা বেতনে AI চ্যাটবট তৈরির সুযোগ

দোতলা পর্যন্ত নামতেই রাজেশদেবীর হাত ফস্কে যায় এবং তিনি নিচে পড়ে গুরুতর মাথায় আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম হন তাঁর স্বামী রামবীর, যিনি পরে সেনার একটি জিপে উদ্ধার হন। গাজিয়াবাদের অতিরিক্ত জেলাশাসক সৌরভ ভট্ট জানান, নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তাঁর দেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সবরকম সহায়তা করা হবে। মৃতার পুত্র বিশাল গোলা বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে হোটেলে বিক্ষোভকারীরা ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাবা-মা চারতলায় আটকে পড়েন। উপায় না দেখে তাঁরা বিছানার চাদর ও শাড়ি জুড়ে নামার চেষ্টা করেছিলেন। মা নামতে গিয়ে হাত ফস্কে পড়ে যান।   আর তাতেই প্রাণ হারান রাজেশদেবী।  দীর্ঘ কাঠখড় পুড়িয়ে বৃহস্পতিবার ভারতে ফেরানো হয় রাজেশের দেহ (Nepal Protest)।

Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1GbdnH1jqc/

গোটা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ বিশাল বলেন, ‘ দু’দিন ধরে আমরা জানতেই পারিনি বাবা-মা কোথায় রয়েছেন। অবশেষে এক রিলিফ ক্যাম্পে বাবার খোঁজ পেলে। ততক্ষণে হাসপাতালে মায়ের মৃত্যু হয়েছে।‘ উল্লেখ্য,গত ৪ সেপ্টেম্বর নেপালে নিষিদ্ধ হয় ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স-সহ প্রায় সব ধরনের সোশাল মিডিয়া। এমন সিদ্ধান্তেই বেজয় ক্ষেপেছে নেপালের ‘জেন জি’। সোমবার হাজার হাজার প্রতিবাদী কাঠমান্ডুর রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ দেখান। রাতের মধ্যে তা হিংসাত্মক চেহারা নেয়।  নেপালের এই বিক্ষোভের ফলে এটাই প্রথম ভারতীয় পর্যটকের প্রাণহানির ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে ভারতীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে (Nepal Protest)।

Related Articles