আন্তর্জাতিক

আমেরিকার নিশানায় ভারত! রুশ তেল ইস্যুতে ভারতকে কঠোর ‘শাস্তি’-র হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন লিন্ডসে গ্রাহাম।

Truth Of Bengal: রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার কারণে ভারতকে আরও কঠোর ‘শাস্তি’ দেওয়ার পথে হাঁটতে চলেছে আমেরিকা। ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। একই ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে চিন ও ব্রাজিলও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী নেতা লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, এই সংক্রান্ত একটি বিল খুব শিগগিরই আমেরিকার আইনসভায় পেশ করা হতে চলেছে।

বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন লিন্ডসে গ্রাহাম। সেখানে তিনি জানান, রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধকে যারা পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই বিল আনা হচ্ছে। ট্রাম্প এই বিল পেশের বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। লিন্ডসের মতে, আগামী সপ্তাহেই মার্কিন আইনসভায় এই বিল নিয়ে ভোটাভুটি হতে পারে।

বিলটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিন্ডসে লেখেন, এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই সব দেশকে শাস্তি দিতে পারবেন, যারা রাশিয়ার তেল কিনে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পুতিনকে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করছে। এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে ভারত, চিন এবং ব্রাজিলের নাম উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগেই রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে বর্তমানে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশ। পাশাপাশি, আমেরিকার সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির শর্ত হিসেবেও নয়াদিল্লির উপর রুশ তেল আমদানি বন্ধ করার চাপ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই রাশিয়ার দুই তেল সংস্থা—রসনেফ্ট ও লুকঅয়েলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

এই আবহে গত রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “ওরা (ভারত) রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে। আমরা খুব শিগগিরই ওদের উপর আরও বেশি শুল্ক চাপাতে পারি।” ট্রাম্পের দাবি, শুল্ক আরোপের পরেও ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়নি।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ সত্ত্বেও ভারত বারবার জানিয়ে এসেছে, দেশের উপভোক্তাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই তারা সিদ্ধান্ত নেবে। কোন দেশ থেকে কতটা সস্তায় তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি।

প্রসঙ্গত, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরই রাশিয়ার তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল আমেরিকা ও পশ্চিমি দেশগুলি। সেই পরিস্থিতিতে তেল বিক্রি বজায় রাখতে বড় অঙ্কের ছাড়ের ঘোষণা করে পুতিন প্রশাসন। ফলস্বরূপ, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ায় ভারত। বর্তমানে চিনের পর ভারতই রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, রাশিয়া তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করছে। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব দাবি করলেও এখনও পর্যন্ত রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন ট্রাম্প। তাই পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসাতে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে, এখনও পর্যন্ত সরাসরি রাশিয়ার উপর নতুন কোনও বড় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়নি আমেরিকা।

এরই মধ্যে গত ডিসেম্বরে ভারতে সফরে এসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রশ্ন তুলেছিলেন, আমেরিকা নিজে যদি রাশিয়া থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি কেনে, তবে ভারতের ক্ষেত্রে সেই অধিকার কেন থাকবে না। এই বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছিলেন পুতিন।

Related Articles