আন্তর্জাতিক

জাপানে ফের ভূমিকম্প! ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.৮, আশঙ্কা মেগাকোয়েকের

জাপান সরকার অনুমান করেছে, নানকাই ট্রফ ভূমিকম্প ও সুনামি ঘটলে প্রায় ২ লক্ষ ৯৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং ২ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।

Truth Of Bengal: জাপানের শিমানে প্রিফেকচারে মঙ্গলবার এক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রথমে জাপান আবহাওয়া দফতর (JMA) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.৩ বলে জানিয়েছিল, পরে তা কমিয়ে ৪.৫ করা হয়। অপরদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS-এর রিয়েল-টাইম তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.৮। যদিও কম্পনের শক্তি তুলনামূলকভাবে ছিল বেশি, তবু কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

JMA জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল শিমানে প্রিফেকচারের পূর্বাংশে ছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের ১ থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প-তীব্রতা স্কেলে শিমানে কম্পনের মাত্রা ‘আপার-৫’ নথিভুক্ত হয়েছে, যা শক্তিশালী ধাক্কার মধ্যে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়নি।

জাপান প্রাকৃতিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। তাই প্রতিটি মাঝারি বা বড় কম্পনই দেশবাসীর মনে ২০১১ সালের ভয়াবহ স্মৃতি তাজা করে। তখন ৯.০ মাত্রার সমুদ্রতলের ভূমিকম্প বিশাল সুনামি সৃষ্টি করেছিল, যাতে প্রায় ১৮,৫০০ মানুষ মারা যায় বা নিখোঁজ হয়। সেই ট্র্যাজেডির পর জাপানে ভূমিকম্প-সতর্কতা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে JMA প্রথমবারের মতো জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দক্ষিণ উপকূলজুড়ে ‘নানকাই ট্রফ’ অঞ্চলে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছিল। এই ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতলের খাদ বরাবর বড় মাত্রার ভূমিকম্প বা ‘মেগাকোয়েক’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফিলিপাইনের সমুদ্র প্লেট ধীরে ধীরে জাপানের স্থলভাগের নীচে ঢুকছে, যা ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।

জাপান সরকার অনুমান করেছে, নানকাই ট্রফ ভূমিকম্প ও সুনামি ঘটলে প্রায় ২ লক্ষ ৯৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং ২ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।

জাপান চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তের ‘রিং অব ফায়ার’-এর অংশ। দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ১,৫০০ ছোট-বড় ভূমিকম্প ঘটে। অধিকাংশই তেমন ক্ষতি করে না, তবে কম্পনের শক্তি, কেন্দ্রের গভীরতা এবং বসতির কাছাকাছি অবস্থান অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে। শিমানে এই ভূমিকম্পে বড় বিপদ না ঘটলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জাপানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি ভবিষ্যতেও থাকবে।

Related Articles