কলকাতা

ডা. অনিকেত মাহাতোর পদত্যাগ: সিনিয়র রেসিডেন্ট বন্ডের জন্য জনগণের কাছে সাহায্য চাইলেন অনিকেত

একই দিনে অনিকেত মাহাতো নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যও সবার সঙ্গে শেয়ার করেছেন, যা সাউথ ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের সল্টলেক শাখায় তার নামে খোলা একটি অ্যাকাউন্ট।

Truth Of Bengal: ডাক্তার অনিকেত মাহাতো সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে এক কিউআর কোড প্রকাশ করে বলেছিলেন, “তোমরা আমাকে টাকা দাও, আমি তোমাদের ন্যায়বিচার দেব।” সোমবার, ৫ জানুয়ারি, সরকারি সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ বা ‘এসআর’শিপ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। একই দিনে অনিকেত মাহাতো নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যও সবার সঙ্গে শেয়ার করেছেন, যা সাউথ ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের সল্টলেক শাখায় তার নামে খোলা একটি অ্যাকাউন্ট।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সিনিয়র রেসিডেন্টশিপের বন্ড পোস্ট ত্যাগ করলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সরকারকে দিতে হয়। অনিকেত জানিয়েছেন, এই বন্ডের শর্ত অনুযায়ী তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকা সরকারকে প্রদান করতে হবে, যা তার নিজের সামর্থ্যের বাইরে। তাই ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে জনগণের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন তিনি। অনিকেতের যুক্তি, তাঁর প্রেরণা এসেছে বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের চিন্তাধারা থেকে।

ডাক্তার অনিকেত স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত চিঠিতে জানিয়েছেন, “সময়মতো আমাকে বৈধ নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এর ফলে আমার মূল্যবান শিক্ষাকাল অপূরণীয়ভাবে নষ্ট হয়েছে। গুরুতর মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি আর সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে যোগদান করতে ইচ্ছুক নই।”

স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের মতে, সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার খরচ মূলত জনগণের করের টাকায় বহন করা হয়। সেই কারণে বন্ডের মাধ্যমে জেলায় গিয়ে সেবা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে। যদি তা পালন না করা হয়, ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়। জানা গেছে, যতদিন অনিকেত মাহাতো এই ৩০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করবেন না, ততদিন স্বাস্থ্যদফতরের‘এনওসি’ বা ছাড়পত্রও পাবেন না।

সেদিন বিকেলে রেসিডেন্ট ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন একটি বৈঠকের ডাক দিয়েছিল। সম্প্রতি জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্ট থেকে পদত্যাগ করার পর অনিকেতের এই পদত্যাগ নিয়ে সদস্যদের মধ্যে তর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়। বৈঠকটি সদস্যদের মধ্যে মতবিনিময় ও সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ডাকা হয়েছিল, কিন্তু অনিবার্য কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।