“আমি এখনও শেষ হয়ে যাইনি!”, বিদেশ থেকে চোখের ক্ষতচিহ্নের ছবি পোস্ট করে বার্তা অভিষেকের!
"সব আঘাতকে শক্তি করেই ফের ঘুরে দাঁড়াব!" তোলপাড় রাজনীতির আবহেই অভিষেকের ইঙ্গিতবাহী পোস্ট ঘিরে আলোড়ন!
Truth of Bengal: বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়ে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে কালীঘাট। একসময় দলের শীর্ষ সৈনিকদের অনেকেই সঙ্গ ছেড়ে অন্য শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে একাধিক আইনি মামলায় জর্জরিত কালীঘাট তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি আবার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে শুভেন্দু অধিকারী সোজাসুজি দাবি করেছেন যে মধ্যমগ্রামের চন্দ্রনাথ রথ খুনের মাস্টারমাইন্ড নাকি স্বয়ং ‘ভাইপো গ্যাং’! একদিকে আইনি চাপ, অন্যদিকে প্রতীক হারানোর আশঙ্কা, সব মিলিয়ে জোড়াফুল শিবিরের ভবিষ্যৎ যখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে, ঠিক তখনই সোশাল মিডিয়ায় এক নজিরবিহীন ও ইঙ্গিতবাহী পোস্ট করে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন অভিষেক।
দীর্ঘদিন ধরেই চোখের মারাত্মক সমস্যায় ভুগছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিকবার চিকিৎসা করাতে তাঁকে বিদেশে পাড়ি দিতে হয়েছে। সম্প্রতি আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়েই ফের বিদেশে চিকিৎসা করাতে গিয়েছেন তিনি। তবে ক্ষমতা হারানোর পর ও মামলা-মকদ্দমায় চারদিক থেকে ঘেরাও হওয়ার কারণে এবারের পরিস্থিতি একেবারে অন্যরকম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ যখন ধরে নিয়েছিলেন যে কালীঘাটের নেতৃত্ব আর হয়তো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না, ঠিক তখনই নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে একটি বিস্ফোরক স্টোরি পোস্ট করেন অভিষেক।
ইনস্টাগ্রামের সেই ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তাঁর চিকিৎসার জন্য হওয়া চোখের গভীর ক্ষতচিহ্ন। আর সেই ফটোর ক্যাপশনেই তিনি লিখেছেন, “এই ক্ষতচিহ্নই বলে দেয় যে আমি কতটা কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আর আমার এই চোখ বলে দেয় যে আমি এখনও শেষ হয়ে যাইনি!”
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু ধারালো বার্তার মাধ্যমে অভিষেক একযোগে প্রতিপক্ষ ও নিজের দলীয় সমর্থকদের পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলেন যে, কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই ময়দান ছেড়ে পালানোর লোক তিনি নন। হাজারও রাজনৈতিক আঘাত, সিবিআই-ইডি হামলা কিংবা ব্যক্তিগত শারীরিক কষ্টকে ঢাল বানিয়েই তিনি ফের রাজনীতির মূল স্রোতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আপাতত এই পোস্ট বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।






