নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা মমতা শিবিরের, কাদের টিকিট দিল কালীঘাট?
প্রতীক জটিলতার মাঝেই বিরাট পদক্ষেপ! নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ঘাসফুল শিবিরের বাজিমাত চাল?
Truth of Bengal: প্রতীক সংক্রান্ত চরম আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার মাঝেই রাজ্য রাজনীতির নজরকাড়া দুটি কেন্দ্র, নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস (মমতা শিবির)। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা ছিল যে, নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনে হয়তো খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এমনকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ঋতপন্থী তৃণমূল’ স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নিজে প্রার্থী হন, তবে সেই আসনে কোনওভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী দাঁড় করাবে না তাঁরা। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে জানা গেল, এই ভোটের লড়াইয়ে সরাসরি শামিল হচ্ছেন না দলনেত্রী।
রবিবার কালীঘাট তৃণমূলের তরফে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায়, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর রেজিনগর উপনির্বাচনে কালীঘাট তৃণমূলের টিকিটে লড়াইয়ের ময়দানে নামছেন অভিজ্ঞ নেতা রবিউল আলম চৌধুরী। বিধানসভা ভোটে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের অন্দরে যে চরম আড়াআড়ি বিভাজন ও ‘প্রতীক বিতর্ক’ তৈরি হয়েছিল, সেই আবহে কালীঘাটের এই স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণা উপনির্বাচনের পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান বিজেপি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে নন্দীগ্রামের মাটি থেকে প্রার্থী হওয়া নিয়ে দলের ভেতরে দীর্ঘ মানসিক টানাপোড়েন চলছিল। শুভেন্দুর বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের ঝুঁকি না নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব শেষপর্যন্ত স্থানীয় সংগঠক সঞ্চিতা প্রধান দে-র ওপরই ভরসা রাখল। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় নন্দীগ্রামে ঋতপন্থী তৃণমূলের কোনও প্রার্থী না দেওয়ার যে জল্পনা ছিল, তা এবার বদলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রটিতে ত্রিমুখী লড়াই দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতুহল।
অন্যদিকে রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক অক্ষত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে কালীঘাট। আগামী উপনির্বাচন স্রেফ একটি বিধানসভা আসনের দখল নেওয়ার লড়াই নয়, বরং ক্ষমতা পরিবর্তনের পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে আসল ও নকলের টানাটানিতে কালীঘাট নেতৃত্বের প্রভাব প্রমাণ করার এক অগ্নিপরীক্ষা। এবার দেখার, প্রতীক জটিলতা ও দলীয় বিভাজনের আবহ পেরিয়ে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের আমজনতা কার বাক্সে শেষপর্যন্ত সিলমোহর দেয়।






