আর জি কর মামলায় সিবিআইয়ের ১৩তম স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা! শ্মশানে গিয়ে বড় তথ্যের খোঁজ
তদন্তকারীরা সেই শ্মশানেও গিয়েছেন, যেখানে নির্যাতিতার দেহ দাহ করা হয়েছিল
Truth of Bengal: আর জি কর মামলায় শিয়ালদহ আদালতে ১৩তম স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিল সিবিআই। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নতুন তদন্তকারী দল ওই রিপোর্ট জমা দেয়। আদালতে সিবিআইয়ের আইনজীবী জানান, মামলার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নথি, সিসিটিভি ফুটেজ, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং ফরেনসিক তথ্য নতুন করে খতিয়ে দেখা হয়েছে। তদন্তকারীরা সেই শ্মশানেও গিয়েছেন, যেখানে নির্যাতিতার দেহ দাহ করা হয়েছিল। সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল সেখানে গিয়ে একাধিক বিষয় যাচাই করেছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তে সেখান থেকে পাওয়া তথ্যের উল্লেখও নতুন স্ট্যাটাস রিপোর্টে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সিবিআইয়ের আইনজীবী আদালতে আরও জানান, নির্যাতিতার পরিবারের তরফে যে সমস্ত প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, সেগুলিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে তদন্তের কিছু দিক এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে।
রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর নির্যাতিতার বাবা বলেন, তাঁরা এখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তবে বর্তমান তদন্তকারী দল তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছে এবং বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। তাঁর বক্তব্য, শুধু রাজ্য বা দেশ নয়, এই মামলার দিকে গোটা বিশ্বের নজর রয়েছে। প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে। অন্যদিকে, নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী ফের সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আদালতে তিনি বলেন, কারা এই ঘটনায় যুক্ত, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। অথচ যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকেই এখনও তদন্তের আওতার বাইরে রয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, কেস ডায়েরিতে সেই সমস্ত ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে কোনও উল্লেখ রয়েছে কি না, আদালতের তা দেখা উচিত। আইনজীবীর আরও বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ‘তদন্ত চলছে’ বলা হলেও এখনও পর্যন্ত মূলত সঞ্জয় এবং আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারের তরফে যাঁদের ‘মূল অভিযুক্ত’ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁদের ভূমিকা যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়টি বিচার করে দেখা প্রয়োজন।
সিবিআইয়ের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, মামলার কেস ডায়েরিও জমা দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২০ নভেম্বর। এরই মধ্যে তদন্তে ফের গুরুত্ব পাচ্ছে ২০২৪ সালের ৮ ও ৯ আগস্ট রাতের ঘটনাক্রম। নির্যাতিতার সঙ্গে ওই রাতে ডিউটিতে থাকা চার চিকিৎসক সিবিআইকে জানিয়েছিলেন, তাঁরা সকলেই চেস্ট ওপিডিতে নাইট ডিউটিতে ছিলেন। রাত প্রায় সওয়া দশটা নাগাদ নির্যাতিতা নিজের ও চার সহকর্মীর জন্য খাবারের অর্ডার দেন। যে সেমিনার রুম থেকে পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেখানেই ডায়াসে বসে পাঁচজন একসঙ্গে অলিম্পিক দেখতে দেখতে রাতের খাবার খান বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন ওই চিকিৎসকরা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট রাত ১২টা থেকে প্রায় ১টা পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গেই ছিলেন। এর পর নির্যাতিতা ওই সেমিনার রুমের ডায়াসে রাখা ম্যাট্রেসে শুয়ে পড়েন। দুই চিকিৎসক চলে যান স্টাডি রুমে বিশ্রাম নিতে। একজন ইন্টার্ন রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। চতুর্থ চিকিৎসক এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে ডিউটিতে যান। ওই চিকিৎসকের সঙ্গে রাতে একবার ফোনে নির্যাতিতার কথাও হয়েছিল। ফোনে তিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ দেন বলেও জানা গিয়েছে।





