চন্দ্রনাথকে খুনের নেপথ্যে ভাইপো গ্যাং! ২ কোটি টাকায় সুপারি, বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
"বিচারাধীন মামলা, সব অডিও টেপ আমার কাছে আছে!", তৃণমূল নেতার খুনের নেপথ্যে বিরাট ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস?
Truth of Bengal: বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক দুই দিনের মাথায় মধ্যমগ্রামের বুকে নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্বস্ত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। সেই হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার এক নজিরবিহীন ও মারাত্মক বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে নিহত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথের মনোনয়ন পেশের দিন শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট দাবি করে জানান, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে ‘ভাইপো গ্যাং’ অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ শাগরেদরা। শুটারদের দিয়ে চন্দ্রনাথকে ঝাঁজরা করতে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার সুপারি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল সামনে আসার পর মধ্যমগ্রামে বাড়ি ফেরার পথে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে ঝাঁজরা করে দেওয়া হয় শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথ রথকে। ঘটনাটিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠলে তদন্তের দায়িত্ব পায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। এ পর্যন্ত এই খুনের মামলায় মোট ৭ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড কে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় ছিল। মঙ্গলবার হলদিয়ার জনসভা থেকে সেই জট যেন এক লহমায় খুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “আমার কাছে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে, তাতে স্পষ্ট যে এই নির্মম খুনের পেছনে রয়েছে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রিক ‘ভাইপো গ্যাং’। সুপারি কিলারদের প্রায় দুই কোটি টাকা নগদ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ডায়মন্ড হারবারের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের বিস্ফোরক কল রেকর্ডিং ইতিমধ্যেই আমার হাতে এসেছে। তবে যেহেতু বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন, তাই আইনি কারণে এখনই সমস্ত তথ্য সর্বসমক্ষে আনছি না।”
দুর্নীতি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক একাধিক বিতর্কে জর্জরিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘খুনের ষড়যন্ত্রে’র এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ধামাকা মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়েছে। ঘটনাচক্রে, শুভেন্দুর এই দাবির প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঋতপন্থী তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, “দেশের কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রের মুখ্যমন্ত্রী অন্তত উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া এমন গুরুতর কথা বলবেন না। যদি সত্য়িই এই ঘটনার পেছনে এই ষড়যন্ত্র থেকে থাকে, তবে তার চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। মনে রাখবেন, সত্যি কোনওদিন চেপে রাখা যায় না।”





