রাজ্যের খবর

‘সুইটি’ আর ‘টাইটানিকের’ আড়ালে রমরমা মধুচক্র! পাথরপ্রতিমার লাস্যময়ীদের আড়ালে লুকিয়ে কোন বড় মাথা?

নির্দিষ্ট তথ্য হাতে আসার পরই আচমকা অভিযান চালায় পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ

Truth of Bengal: সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমায় দুই আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে কথিত মধুচক্রের হদিস পাওয়ার দাবি পুলিশের। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ রামগঙ্গা বিডিও অফিসের কাছাকাছি থাকা ‘সুইটি’ এবং ‘টাইটানিক’ নামে দুটি হোটেলে হানা দেয়। সেখান থেকে আটজন মহিলাকে আটক করে পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। পুলিশের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই দুই হোটেলে বেআইনি কার্যকলাপ চলার অভিযোগ আসছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে হোটেলগুলির উপর নজরদারিও শুরু হয়। নির্দিষ্ট তথ্য হাতে আসার পরই আচমকা অভিযান চালায় পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ। অভিযান শুরু হতেই হোটেলের মালিক এবং ম্যানেজাররা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। তাঁদের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ধৃত মহিলাদের মঙ্গলবার কাকদ্বীপ আদালতে তোলা হয়। তাঁরা সকলেই পাথরপ্রতিমা থানার বাইরের এলাকার বাসিন্দা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রের দাবি, বাইরে থেকে মহিলাদের এনে ওই দুই হোটেলে রাখা হত এবং সেখানে দেহব্যবসা চালানো হচ্ছিল। তবে এর পিছনে কোনও সংগঠিত নারী পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা জানার চেষ্টা চলছে। পাথরপ্রতিমা ব্লকের রামগঙ্গা ও পাথরপ্রতিমা এলাকায় একাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অধিকাংশ হোটেল নিয়ম মেনে ব্যবসা চালালেও ‘সুইটি’ ও ‘টাইটানিক’ নামের ওই দুই হোটেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ছিল। ফলে পুলিশের অভিযানের পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ালেও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেক বাসিন্দা।

স্থানীয়দের বক্তব্য, এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে এ ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক হোটেল মালিক ও ম্যানেজারদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ঘটনার সঙ্গে বৃহত্তর কোনও চক্রের যোগ রয়েছে কি না, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়।

Related Articles