বাগবাজার সর্বজনীনে অবশেষে কাটল আইনি জট! হাই কোর্টের রায়ে পুজো কমিটি গঠনে সবুজ সংকেত
আদালত স্পষ্ট জানায়, পুজো কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় কোনও ত্রুটি নেই
Truth of Bengal: শতবর্ষ পেরোনো বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গাপুজোর কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের জট অবশেষে কাটল। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য জানিয়ে দিলেন, যে পদ্ধতিতে বাগবাজারের পুজো কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা সঠিক। বহাল রাখা হয়েছে নিম্ন আদালতের নির্দেশও। একই সঙ্গে আবেদনকারী রবিশংকর সেনগুপ্তের মামলা খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। গত ১০ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার সেই মামলার রায় ঘোষণা হয়। আদালত স্পষ্ট জানায়, পুজো কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় কোনও ত্রুটি নেই। এই বিতর্কের সূত্রপাত কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নিম্ন আদালতের নির্দেশে গত ৩০ আগস্ট দুই বিশেষ পর্যবেক্ষকের নজরদারিতে কমিটির ভোটগ্রহণ হয়। মোট ৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ৬৬ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কিন্তু ফল প্রকাশের পরই তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। সাধারণ সম্পাদক পদের দুই প্রার্থী গৌতম নিয়োগী এবং ভাস্কর নিয়োগী—যাঁরা সম্পর্কে দুই ভাই—দু’জনেই ৩৩টি করে ভোট পান। ফলে কাউকেই জয়ী ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।

শুধু সাধারণ সম্পাদক পদেই নয়, ১২ জন কার্যকরী সদস্যের মধ্যে চারজনও ৩২টি করে সমান ভোট পান। তবে কোষাধ্যক্ষ পদে ফল নির্ধারিত হয়ে যায়। একাধিক পদে ‘টাই’ হওয়ায় কমিটি গঠন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। জট কাটাতে আদালত নিযুক্ত দুই পর্যবেক্ষক প্রথমে নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মেটানোর পরামর্শ দেন। একটি পক্ষ দাবি করে, এমন পরিস্থিতিতে সভাপতির ‘কাস্টিং ভোট’ প্রয়োগ করে ফল নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্য পক্ষ তাতে আপত্তি জানায়। বিষয়টি ফের নিম্ন আদালতে গড়ায়। নিম্ন আদালত রায় দেয়, সভাপতি তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। সেই নির্দেশের বিরোধিতা করে দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ ছিল, দুই বিশেষ পর্যবেক্ষক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। পাশাপাশি ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রে অশান্তি ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগও করেন এক মহিলা সদস্য।
শেষ পর্যন্ত হাই কোর্ট সেই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া বাতিল করার আবেদন মানেনি। বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, কমিটি গঠনের যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, তা বৈধ। ফলে নিম্ন আদালতের নির্দেশই বহাল থাকছে। বাগবাজারের ঐতিহ্যবাহী এই দুর্গাপুজোর পথচলা শুরু ১৯১৯ সালে। প্রথমে ৫৫ বাগবাজার স্ট্রিটে ‘নেবুবাগান বারোয়ারি দুর্গাপূজা’ নামে পুজোটি শুরু হয়। পরে পশুপতি বোস লেন এবং বাগবাজার কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকাতেও পুজোর আয়োজন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে স্থায়ীভাবে বাগবাজারে পুজো শুরু হয় এবং গঠিত হয় ‘বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গোৎসব’ কমিটি। ১৯৩০ সালে দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিটির সভাপতি হন। ১৯৩২ সালে সোসাইটি অ্যাক্টে নথিভুক্ত হয় পুজো কমিটি। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬, ২০০৪, ২০০৬ এবং ২০১০ সালে কমিটির নির্বাচন হয়েছিল। দীর্ঘ ১২ বছর পর ফের নির্বাচন ঘিরে যে জট তৈরি হয়েছিল, আদালতের রায়ের পর আপাতত তার অবসান হল।






