রক্তাক্ত বিয়েবাড়ি! খাইবার পাখতুনখোয়ায় ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় মৃত অন্তত ৭, জখম বহু
আচমকাই সে পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরক ফাটিয়ে দেয় বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
Truth Of Bengal: জঙ্গিদের ‘আশ্রয়দাতা’ হওয়ার খেসারত দীর্ঘদিন ধরেই দিয়ে চলেছে পাকিস্তান। ফের একবার রক্তাক্ত হল সে দেশের মাটি। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২৫ জন। আনন্দের উৎসব মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় ভয়াবহ মৃত্যু উপত্যকায়।
শুক্রবার ওই প্রদেশের একটি এলাকায় চলছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। অতিথিদের ভিড়ের মধ্যেই উপস্থিত ছিল হামলাকারী। আচমকাই সে পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরক ফাটিয়ে দেয় বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অতিথিরা তখন নাচে-মেতে ছিলেন। ঠিক সেই সময় প্রবল বিস্ফোরণে বিয়েবাড়ির ছাদ ভেঙে পড়ে।
ছাদ ধসে পড়ায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছনো কঠিন হয়ে যায় উদ্ধারকারীদের জন্য। বিস্ফোরণের পর গোটা এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসাবশেষ ও রক্তের দাগ।
নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন তথাকথিত ‘ভালো তালিবান’—অর্থাৎ প্রাক্তন জঙ্গি, যিনি পরে আত্মসমর্পণ করে রাষ্ট্রের মূল স্রোতে ফিরে এসেছিলেন। বাকি নিহতরা তাঁর আত্মীয়স্বজন বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সংবাদ সংস্থা এপি সূত্রে খবর, ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় শান্তি কমিটির নেতা ওয়াহেদুল্লাহ মাহসুদ, যিনি জিগরি মাহসুদ নামেও পরিচিত।
এই হামলার দায় এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন স্বীকার করেনি। তবে গোয়েন্দা মহলের একাংশের ধারণা, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই হামলার নেপথ্যে থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এই জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই এই প্রদেশের বান্নু জেলায় এক শান্তি কমিটির চার সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে সশস্ত্র হামলাকারীরা। এর আগেও, ২০২২ সালের নভেম্বরে খাইবার পাখতুনখোয়ায় একটি শান্তি কমিটির কার্যালয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। সেই ঘটনায় প্রাণ হারান ৭ জন।






