পাওয়ার লিফটিং প্রতিযোগিতায় সোনা জয় বালুরঘাটের গৃহবধূর
২৯ বছরের শর্মিষ্ঠার জীবনের এই পথচলা সহজ ছিল না।
Truth Of Bengal: বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট : কথায় আছে, বয়স কেবলই সংখ্যা, আসল হল ইচ্ছেশক্তি। সেই ইচ্ছের জোরেই সংসারের দৈনন্দিনতার আড়াল থেকে উঠে এসে রাজ্যের শক্তির মঞ্চে নিজের নাম তুলে ধরলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট শহরের আমবাগান এলাকার গৃহবধূ শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী।কলকাতার বাঙুরে অশোক আখড়া ব্যায়াম মন্দিরের উদ্যোগে আয়োজিত রাজ্য স্তরের পাওয়ার লিফটিং প্রতিযোগিতায় ৬৫ কেজি বিভাগে ডিপ স্কোয়াট ও ডেডলিফ্ট, দুই বিভাগেই প্রথম স্থান অধিকার করেন শর্মিষ্ঠা।
পাশাপাশি দুটি বিভাগে সেরার স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ পদকও পান তিনি। এই সাফল্যে গর্বিত দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা। ২৯ বছরের শর্মিষ্ঠার জীবনের এই পথচলা সহজ ছিল না। ২০১৬ সালের দিকে ওজন বেড়ে যাওয়ায় নানা কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তখন দাদা সুরজিৎ চক্রবর্তীর অনুপ্রেরণায় দীপালী নগর মাঠে নিয়মিত শরীরচর্চা শুরু। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে ঝোঁক তৈরি হয় ওয়েট লিফটিংয়ের দিকে। ছয় বছরের সন্তান, সংসারের কাজ সামলেও নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরেন তিনি।রাজ্য প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে শর্মিষ্ঠা জানান, গোটা রাজ্য থেকে ৫০ থেকে ৬০ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর বিভাগেই ছিলেন ২০ জনের বেশি।
সেই কঠিন লড়াইয়েই জোড়া সোনা জিতে নেওয়া তাঁর কাছে স্বপ্নপূরণের মতো।সংসার সামলে পাওয়ার লিফটিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পথে সমস্যার কথাও অকপটে স্বীকার করেন শর্মিষ্ঠা। তবে তাঁর কথায়, এই খেলাকে ভালবাসেন বলেই সমস্ত অসুবিধা জয় করে এগিয়ে চলেছেন। আশেপাশের গৃহবধূদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা স্পষ্ট—গৃহবধূ বলে পিছিয়ে থাকার কোনও কারণ নেই। যেটা ভালবাসেন, সেটাকে আঁকড়ে ধরলেই সাফল্য আসবেই।শর্মিষ্ঠার দাদা সুরজিৎ চক্রবর্তীর কথায়, একসময় ওজন বৃদ্ধির জন্য বোনকে হাসির পাত্র হতে হয়েছে। সেখান থেকে আজ রাজ্য স্তরের সেরা হওয়া শুধুই পরিশ্রম আর ভালবাসার ফল। বোনের এই সাফল্যে তিনি শুধু দাদা হিসেবেই নন, জেলার বাসিন্দা হিসেবেও গর্বিত।সংসারের আঙিনা থেকে শক্তির মঞ্চ পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার এই যাত্রা আজ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল বালুরঘাটের বহু নারীর কাছে।






